কলকাতা : ভোট পরবর্তী হিংসা বাংলায় কোনও নতুন ঘটনা নয়। এই হিংসার কবলে পড়ে খুন ও ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ। পূর্বেও এই ধরণের ঘটনার সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের পর এই হিংসার ঘটনা অনেকটা বেড়ে যায়। আর ২৬-এ নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর আবারও পুরোনো মামলার সব ফাইল খোলা হচ্ছে ধীরে ধীরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যারা ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত তাদের সোজা জেলে পাঠান হবে। সেই নির্দেশ মত, ২০২১-এর ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস-এর ফাইল খুলল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে খুলল ৪৫৮টি ফাইল। নতুন করে তদন্ত শুরু হবে বলে জানানো হয়। নতুন করে ১৮১টি অভিযোগের ভিত্তিতে FIR দায়ের করা হয়েছে। ফাইনাল রিপোর্টের পরেও ৫৯টি কেস 'রিওপেন' করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, ২০২১ এর নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে তাদের কর্মীদের অত্যাচারিত হতে হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের খুন, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, বাড়ি ভাঙচুর, ভুয়ো পুলিশ কেস দেওয়ার মতো অভিযোগ তোলে বিজেপি। এসবের পাশাপাশি বিরোধী দলের বহু কর্মীকে বাড়ি ছাড়তে হয় বছরের পর বছর। আরও পড়ুন - 'ভোট পরবর্তী হিংসায় যোগ থাকলে সোজা জেলে, না থাকলে...!' বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিপুল ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথমবার বিজেপি বাংলার মসনদে বসেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর শপথ নেওয়ার পরই পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক করেন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। তারপর তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে নতুন করে পদক্ষেপ করা হবে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য পুলিশ গোটা রাজ্য জুড়়ে ৪৫৮টি ঘটনা নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে।
এই পদক্ষেপের পর অ্যাকশনে নেমে পড়েছে পুলিশ। ২০২১ ভোট পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির অভিযোগে দুর্গাপুরে ২ তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুর্গাপুরে লাউদোহা ফরিদপুর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি শতদীপ ঘটক ও দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেফতার হন। আদালতে তোলার সময় শতদীপ ঘটককে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান তোলে জনতা। আরও পড়ুন - 'ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে পাথর ছোঁড়া যাবে না', পার্ক সার্কাস কাণ্ডের পর কী কী নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর ?
