কলকাতা : ভোটের আগে সিপিএমে ধাক্কা, কাস্তে হাতুড়ি ছেড়ে জোড়াফুলে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে বসলেন একদা বামনেতা প্রতীক উর রহমান। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বৈঠকে সিপিএম-ত্যাগী প্রতীক উরের আলাপচারিতা শুরু হল।  এরপরই ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। অবশেষে কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে, তৃণমূলে যোগ দিলেন সদ্য পদত্যাগী সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক-উর রহমান।                         

এদিন অভিষেকের সঙ্গে কথা বলার আগে কারও সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। আমতলায় সরাসরি অভিষেকের সঙ্গেই কথা বললেন প্রতীক উর। সকলেই বুঝে যান, নতুন দলে যোগ দেওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এরপর অভিষেক ও প্রতীক একত্রে এসে তাঁর দলবদলের কথা ঘোষণা করেন।  ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে যাঁর বিরুদ্ধে বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, শনিবার সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে পথ-চলা শুরু  করলেন প্রতীক উর রহমান। নতুন দলে যোগ দিয়ে বলেন, 'বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একমাত্র ভরসা তৃণমূলই'। তাই এই যোগদান।                           

সম্প্রতি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে 'লবিবাজি', 'গোষ্ঠীবাজি'এবং ইচ্ছাকৃতভাবে 'কোণঠাসা' করে রাখার অভিযোগ তুলে সরব হন প্রতীক-উর রহমান। সেই সঙ্গে ঢালাও প্রশংসা শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারের। বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য় নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে  দিন কাটাতে হচ্ছে। 'সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও জল্পনা তৈরি হয়েছিল প্রতীক উর তৃণমূলের পথেই যাচ্ছেন, এখন সেই সম্ভাবনাই সত্যি হল।          

SFI-এর রাজ্য সভাপতি ছিলেন প্রতীক উর রহমান। ২০১৯ সাল থেকে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটেও ডায়মন্ডহারবার থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন প্রতীক-উর। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তাঁর প্রার্থী হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল বলে সূত্রের খবর। কিন্তু তার আগেই প্রতীক বদল করলেন প্রতীক উর।