কলকাতা: শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠানের স্থান বদলে ক্ষুব্ধ রাষ্ট্রপতি, রিপোর্ট তলব কেন্দ্রের। মুখ্যসচিবের কাছে জবাব তলব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের। বিকেল ৫টার মধ্যে মুখ্যসচিবের কাছে জবাব তলব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের। রাষ্ট্রপতির সফরে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ কেন্দ্রের। প্রোটোকল, অনুষ্ঠানের স্থান, রাষ্ট্রপতির রুট এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে রিপোর্ট তলব।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ইস্যুতে কৌশল বদল তৃণমূলের 

Continues below advertisement

 'মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম এলেন না, আমি দুঃখ পেয়েছি। জানি না, হয়তো কোনও কারণে রাগ করেছেন' উত্তরবঙ্গে তাঁর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানের জায়গা বদল নিয়েও প্রশাসনের সমালোচনায় সরব হন দ্রৌপদী মুর্মু। কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, এখানে (সম্মেলন) হলে ভাল হত। এতবড় মাঠ। এখানে ৫ লাখ লোক জড়ো হতে পারে। শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব বলেন, এটা সেই NGO, যারা অনুষ্ঠান করেছে তারা বলতে পারবে, রাজ্য সরকারকে কেন দোষারোপ করা হচ্ছে?অনুষ্ঠানে উপস্থিত খোদ রাষ্ট্রপতি। দেশের সাংবিধানিক প্রধান! আর সেই অনুষ্ঠান ঘিরেই বেনজির বিতর্ক!অনুষ্ঠানের স্থান নিয়ে প্রশ্ন। কেন পাল্টানো হল অনুষ্ঠানস্থল? তাই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন!যা ঘিরে দাবি পাল্টা দাবি!কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাষ্ট্রপতি।পাল্টা ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ খুললেন মুখ্য়মন্ত্রীও।

রাষ্ট্রপতি  দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত, মন্ত্রীদেরও আসা উচিত। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম এলেন না। মমতাজি আমার বোনের মতো, ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে রাগ করেছেন। মুখ্য়মন্ত্রী  মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, 'মাননীয় রাষ্ট্রপতি তাঁকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও রাজনীতি বেচতে পাঠানো হয়েছে। ক্ষমা করবেন ম্য়াডাম। আপনি বিজেপির পলিসির ফাঁদে পড়ে গেছেন। বছরে একবার আসুন না, আপনাকে গিয়ে রিসিভ করব।  বছরে যদি আপনি ৫০ বার আসেন, তো আমার সময় কি আছে এত?'

শনিবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে ছিল নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি৷ ভারতীয় সাঁওতাল সমাজের দাবি, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর সন্তোষিণী বিদ্যাচক্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ার শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান সরানো হয় বাগডোগরায়। ২টি জায়গার দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।

ভারতীয় সাঁওতাল সমাজের দাবি, শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের স্থান বদলের খবর না পাওয়ায় অনেকে বিধাননগরে চলে যান, দূরত্বের কারণে আর বাগডোগরায় যেতে পারেননি।এই খবর পেয়ে, বাগডোগরার অনুষ্ঠান সেরে বিধাননগরে আসেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি  দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, এখানে এসে দেখে মনে হচ্ছে এখানে (সম্মেলন) হলে ভাল হত। এতবড় মাঠ। জানি না, প্রশাসনের কী হয়েছে। প্রশাসনের মনে কী আছে জানি না। আমি তো সহজে এখানে আসতে পারলাম। তারা বলল, না, ওখানে ছোট জায়গায়। আমি তো দেখছি, এখানে ৫ লাখ লোক জড়ো হতে পারে। জানি না, কী কারণে আমাকে ওখানে নিয়ে গেল।'