করুণাময় সিংহ, ও সুনীত হালদার, কলকাতা: আর জি করে চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনে এবার নতুন তদন্ত দাবি। নতুন করে তদন্ত ও নতুন করে ট্রায়ালের দাবি অভয়ার পরিবারের।  আইনজীবীর হাইকোর্টে আবেদনের প্রস্তুতি। আইনজীবীর সঙ্গে কথা অভয়ার মা-বাবার। আগে শিয়ালদা কোর্টে পিটিশন ফাইলে বাধা দেয় CBI, অভিযোগ অভয়ার পরিবারে আইনজীবীর। CBI-এর ভূমিকায় ফের ক্ষোভপ্রকাশ নিহত চিকিৎসকের পরিবারের।

আর জি কর মেডিক্য়ালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনকাণ্ডে এবার নতুন করে তদন্ত ও নতুন করে ট্রায়ালের দাবি জানাতে চলেছেন, নিহতের পরিবারের আইনজীবী। হাইকোর্টে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রবিবার, মালদায় আইনজীবীর বাড়িতে যান, তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা।নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা বলেছেন, 'আমাদের জীবনটাই হয়তো শেষ হয়ে গেছে। বেঁচে আছি এই অবধিই। কিন্তু, মেয়ের ন্য়ায় বিচারের অপেক্ষায় বেঁচে থাকব।' আর জি কর মেডিক্য়ালে তরুণী চিকিৎসককে খুন-ধর্ষণের মামলায়, শুধুমাত্র সঞ্জয় রায়কে দোষীসাব্য়স্ত করে আমৃত্য়ু কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদা আদালত। রাজ্য় সরকার চাইছে সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি হোক। সিবিআই চাইছে, সঞ্জয় রায়কে ফাঁসি দেওয়া হোক।' আর নিহত চিকিৎসকের পরিবার বলছে, সঞ্জয়ের এখনই ফাঁসি না দিয়ে, এই ধর্ষণ-খুনের নেপথ্য়ে আরও যারা রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হোক। এই প্রেক্ষাপটে আবার নতুন করে লড়াইয়ে নামছে পরিবার। 

নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা বলেন, পুরো ব্য়াপারটা সামনে আনার জন্য় যে চেষ্টা উনি করেছেন, সেটাকে আরও কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। শুধু একা সঞ্জয়কে ফাঁসি দিয়ে ব্য়াপারটাকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। এর মঝ্য়ে অনেকে যুক্ত আছে। হাইকোর্টে নতুন করে তদন্ত ও নতুন করে বিচারের আবেদন জানাতে চলেছেন নিহত তরুণীর পরিবারের আইনজীবীর।  আর জি কর-কাণ্ডে মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের মামলায়, সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে নতুন করে আবেদন দাখিল করতে বলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। মামলাকারীকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এখানে যা যা বিবৃতি বা অভিযোগ রয়েছে সেটা হলফনামা দিয়ে বলতে হবে। তাই ভাল হবে এই আবেদন প্রত্যাহার করে নতুন করে মামলা করা। 

আরও পড়ুন, বাংলাদেশ থেকে এপারে এসে চুপচাপ বসবাস, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উত্তর ভুল, তারপর যা হল..

পাশাপাশি, প্রধান বিচারপতি বলেন, এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টেও বিচারাধীন রয়েছে। তিনি জানতে চান, মামলাকারী কি নতুন করে আবেদন করবেন না সর্বোচ্চ আদালত এই মামলা এখানে বন্ধ করে দেবে? হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেব? উত্তর জানানোর জন্য নিহত চিকিৎসকের মা-বাবাকে সময় দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি।  এরইমধ্য়ে রবিবার মালদায় প্রবীণ আইনজীবীর বাড়িতে পৌঁছে যান নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা বলেছেন, 'আমরা কীভাবে কেসটা নিয়ে এগোব, সেই নিয়ে দাদার সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি তো আমাদের কেসটা নিজের পরিবারের মতো করেই দেখছেন।কেসটা যে এতটা এগিয়েছে, ওঁর আর্গুমেন্টের ফল।' কিন্তু, শেষ পর্যন্ত কী হয় সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।