আবির দত্ত, সন্দীপ সরকার ও হিন্দোল দে, কলকাতা: আর জির মেডিক্য়ালে লিফট বিপর্যয়ে এক ব্য়ক্তির মৃত্য়ুর পরও হুঁশ ফেরেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ঘটনার ২দিন পরও দেখা গেল, জরুরি বিভাগের তিন নম্বর লিফটের ভিতরে লিফটম্য়ানের চেয়ার থাকলেও নেই লিফটম্য়ান। একা একাই যাতায়াত করতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের।

Continues below advertisement

হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে একজনের বেঘোরে প্রাণ গিয়েছে।  কিন্তু হুঁশ কি ফিরেছে? উত্তর... না। শুক্রবার সকালের ভয়াবহ ঘটনার পর কেটে গেছে ২ দিন। কিন্তু রবিবারও আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখা গেল পরিকাঠামোর সেই ঢিলেঢালা ছবিটা। এই হচ্ছে জরুরি বিভাগের তিন নম্বর লিফট। ভিতরে রয়েছে লিফটম্য়ানের চেয়ার। কিন্তু দেখা পাওয়া গেল না লিফটম্য়ানের।

আর জি কর মেডিক্য়ালের ট্রমা সেন্টারে যে ২ নম্বর লিফটে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে কোনও লিফটম্য়ান ছিলেন না বলে প্রথমেই অভিযোগ তুলেছিলেন মৃত অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাবা। মৃত অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাবা অমল বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলছেন, 'মৃতদেহ আটকে গেছে। লিফটম্য়ান নেই। আমাকে ধমকাচ্ছে এরা। যারা এখানকার কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, আমাকে বলছে, আপনি চুপ করুন তো। আমি বললাম আমি ওর বাবা। ছেলে মরে যাচ্ছে। আপনি এখানে বলছেন, আপনি খুলবেন কিনা।'

Continues below advertisement

এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটার আগেই প্রকাশ্য়ে এল ভাইরাল এই ভিডিও। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ আর জি কর মেডিক্য়ালের এমারজেন্সি বিল্ডিংয়ের এই লিফটটি বিকল হয়ে যায়। দেখা যায়, অর্ধেক খোলা অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে পড়েছে লিফটটি। রবিবার অন্য একটি লিফটে দেখা গেল, ভিতরে আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য় তিনটি নম্বর লেখা রয়েছে। সেই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করেছিল এবিপি আনন্দ। সুপারভাইজারের নম্বরে ফোন করলে উত্তর পাওয়া গেল, 'আমি এখন কিছু বলব না। তদন্ত চলছে। এই সব বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন না।' আরেকটি নম্বরে ফোন করা হলেও কেউ তোলেননি।

এখানেই শেষ নয়, ম্য়ানেজারের যে ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে, সেখানে ফোন করে যা জানা গেল, তা আরও চাঞ্চল্য়কর।

এবিপি আনন্দ - দাদা, এটা কি PWD ইলেকট্রিকাল লিফটের এমারজেন্সির মেম্বার আপনি?

উত্তর - আমাদের... (টেন্ডার) ছিল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফেব্রুয়ারির পর থেকে PWD-র... পরিবর্তন হয়ে গেছে।

এবিপি আনন্দ - কিন্তু এই যে লিফটের মধ্য়ে লেখা ছিল, সমস্য়া হলে ফোন করার জন্য় আপনার নম্বরটা লেখা আছে।

উত্তর- ওটা আপনি সুপারভাইজার যে আছে, দেখুন ২ টো নম্বর আছে, সুপারভাইজারকে ফোন করে নিন।

অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মৃত্য়ুর পর শনিবার ঘটনাস্থলে আসেন ফরেন্সিক দল এবং হোমিসাইড বিভাগের আধিকারিকরা। সূত্রের দাবি, তাঁদের প্রাথমিক তদন্তে চূড়ান্ত গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে। অভিযোগ, যাঁদের উপর লিফট চালানোর দায়িত্ব ছিল, তাঁরা যথাযথভাবে তা পালনই করেননি। অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মৃত্য়ুর জন্য আসলে দায়ী কে? আপাতত পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবার।