সনৎ ঝা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী  নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকে এদিন উপস্থিত হন ১১ তৃণমূল বিধায়ক। বন্যা হলে কীভাবে মোকাবিলা? প্রসঙ্গে বৈঠক করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মালতিপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি, চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুর রহমান, চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়, গোয়ালপোখরের তৃণমূল বিধায়ক গুলাম রব্বানি, ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক কানহাইয়ালাল আগরওয়াল। হরিরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিপ্লব মিত্র, মোথাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক নজরুল ইসলাম এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। বৈঠকে গরহাজির ছিলেন চাকুলিয়ার তৃণমূল বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদ এবং সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা বাসুনিয়া।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, “কত WBCS অফিসার যে রয়েছে, যারা পাশ করেনি, যোগ্য নয় ..”, বিস্ফোরক তাপস রায়, কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন BJP বিধায়ক

Continues below advertisement

?

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের আজকের এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  আজকে নিশীথ প্রামাণিক যে বৈঠক ডেকেছিলেন,  স্বাভাবিকভাবেই এটা ছিল সৌজন্য বৈঠক। মূলত বন্যা হলে কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় ? এটা ছিল বিষয়। যদিও সামনে বর্ষা আসছে ঠিকই, তবে এখন বন্যার কোনও ভ্রুকুটি নেই। তবে এদিন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল যেটা, সেটা মূলত এটা একটা প্রস্তুতি বৈঠক। বিশেষ করে, রাজ্যে পালাবদলের পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে সকলের সঙ্গে যে বৈঠক করা দরকার, সেই কারণেই আজকের বৈঠক ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এদিনের এই বৈঠকে তৃণমূল বিধায়করা প্রায় সকলেই হাজির হয়েছিলেন।

পূর্বতন সরকারের শেষ ১৫ বছরে একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল, যেটা মূলত বিরোধী বিধায়কদের কোনও বৈঠকে না ডাকা। প্রশাসনিক বৈঠকে না নিয়ে আসা। কিন্তু এদিন  উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকে সেই ছবি বদলাল। এদিন বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক বৈঠক ছিল, যেখানে বন্যার ভ্রুকুটি রয়েছে, যেমন মালদা, মোথাবাড়ি রয়েছে, মানিকচক, রতুয়া, হরিশচন্দ্রপুর-সেখানের বিধায়করা একদিকে যেমন উপস্থিত ছিলেন, এখানেই শেষ নয়, যে সমস্ত জায়গায় বন্যার ভ্রুকুটি পর্যন্ত নেই, সেখানকার বিধায়করাও এদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন।

একদিকে রাজ্য সরকার যেমন একটা বার্তা দিয়েছেন যে, বিরোধীদের আমরা ডাকলে, আসতে হবে। এদিন তৃণমূল বিধায়করাও এই বৈঠকে হাজির হয়ে একটা বার্তা দিলেন, যে শুধু এলাকার জন্য দল নয়, সেখানে বিধায়ক অর্থাৎ সরকারি প্রতিনিধি, এই জায়গাটাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সকলেই এদিন উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ বিধায়করা দলগত নয়, এলাকার প্রতিনিধিত্ব এলাকার সমস্যার জন্য, সরকারের সঙ্গে যে সহযোগিতা যে করবেন, সেইটার আজকে তাঁরাও বার্তা দিয়েছেন। এই পারস্পরিক বার্তার কারণেই এদিনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ। এবং এই সরকারের পাশে 'আমরা ওরা' এটা আর থাকছে না, তা আজকের বৈঠক থেকে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।