সুজিত মণ্ডল, সমীরণ পাল ও পার্থ প্রতিম ঘোষ : SIR-এর শুনানিপর্ব চলাকালীন রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ফর্ম সেভেন। নদিয়ার কল্যাণীতে ফর্ম সেভেন জমা দিতে গিয়ে তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বনগাঁয় মহকুমা শাসকের ঘরের সামনে অবস্থানে বসলেন তিন বিজেপি বিধায়ক।

Continues below advertisement

রাজ্য রাজনীতিতে এবার সাত-সংঘাত। SIR আবহে 'ফর্ম 7' নিয়ে সুর সপ্তমে। খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ-আবেদন করা যাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তার আগে বাঁকুড়ার তালডাংরায় বিজেপি নেতাদের গাড়ি থেকে প্রায় চার হাজার ফর্ম 7 উদ্ধার ঘিরে রাজ্য়-রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গেছে। গাড়ির ছবি দেখিয়ে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, "একটা গাড়ির ভিতরে ৯-১০ হাজার ফর্ম নিয়ে গেছে। সব ডিলিট করার জন্য় জেনুইন ভোটারদের নাম। সব বিজেপির এজেন্সি করছে। জীবিত মানুষকে মৃত বলে দিচ্ছে।"

চাপানউতোরের আবহেই এবার কল্যাণী থেকে বনগাঁ, আলিপুর...থেকে চুঁচুড়া...দিকে দিকে ফর্ম সেভেন জমা ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। বিজেপির অভিযোগ, ড্রাফট তালিকায় বহু মৃত, স্থানান্তরিত ও নিখোঁজ ভোটার রয়ে গেছে। তাঁদের নাম বাদ দিতে 'ফর্ম 7' ফিলআপ করে আবেদন জানাতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী যে কোনও ভোটার বা তার পরিবারের সদস্য, BLO কিম্বা ERO-র কাছে অথবা অনলাইনে NVSP পোর্টালে আবেদন জানাতে পারেন। BLA-রাও 'ফর্ম 7' জমা দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম বলছে, একদিনে সর্বোচ্চ ৫০টি ফর্ম জমা দিতে পারেন কোনও BLA। বুধবার প্রায় তিনশো ফর্ম সেভেন নিয়ে মহকুমা শাসকের দফতরে যান নদিয়ার কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। তাঁর গাড়ি মহকুমা শাসকের দফতরে ঢুকতেই, বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। 

Continues below advertisement

এ প্রসঙ্গে অম্বিকা রায় বলেন, "মুখ্য়মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সব জায়গায় তাতিয়ে দিচ্ছে এদের। SIR-এর কাজ যাতে ব্যাহত হয়। ডিস্টার্ব করার জন্যই করছে। আমাদের অবজেকশন, ফর্ম 7 আমরা দাখিল করব।" 

পাল্টা কল্যাণীর তৃণমূল নেতা সায়ন দত্ত বলেন, "অলরেডি বিধায়ক অম্বিকা রায় কল্যাণী বিধানসভার, যিনি এই ৫ বছরে কোনওদিন দেখা দেননি। আপনারা দেখবেন ২-৩ দিন হল, বিভিন্ন জায়গায় উনি ঘুরছেন। যাদের ভোটের মাধ্যমে তিনি বিধায়ক হয়েছেন, আজকে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন। ওঁদের প্ল্যান আছে ৮ হাজার ভোটারের নাম কাটার।"

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় আবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, সই করে ফর্ম সেভেন জমা নেওয়ার পরও তা বাতিল করা হয়েছে। বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া বলেন, "এই দেখুন ১৪ তারিখ। আজকে জমা নিয়েছিল। কোন একটা অদৃশ্য ফোন এল। ভূতের ফোন এসেছিল। ভূতের ফোন আসার পরে পুনরায় সিগনেচার করে আবার কেটে দিয়েছে। আমরা কোন রাজ্যে বাস করছি।"

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস অবশ্য বলছেন, "রাজ্যটা বিজেপির পার্টি অফিস নয়। যে নিজেদের মতো সবকিছু ঠিক করে নেবে। এরা যদি এখন SDO অফিসে এসে লরি করে নিয়ে এসে ৭ নম্বর ফর্ম জমা দেয়, বিজেপির পার্টি অফিস থেকে যা শিখিয়ে দিয়েছে, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব যা শিখিয়ে দিয়েছেন যে, এইভাবে লাখ লাখ ভোট তোমরা কাটিয়ে দাও।" কলকাতায় আলিপুরেও ফর্ম সেভেন জমা না নেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি।

অন্যদিকে, বাঁকুড়ার খাতরায় গাড়ি থেকে ফর্ম সেভেন উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ধৃত তিন বিজেপি কর্মীরই জামিন মঞজুর করেছে খাতড়া মহকুমা আদালত।