মুন্না আগরওয়াল, বালুরঘাট: বেঁকে গিয়েছে সিলিং ফ্যানের ব্লেড। এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ল্যাবের সরঞ্জাম। কোথাও কোথাও বেঞ্চও ভাঙা। এমনই ছবি বালুরঘাটে জয়চাঁদ লাল প্রগতি বিদ্যাচক্র উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনে স্কুল খুলতেই এমনই ছবি ধরা পড়ল ওই স্কুলে। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? গোটা ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলে আসন পড়া মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক। গোটা ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বালুরঘাট থানায়।
অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জয়চাঁদ লাল প্রগতি স্কুলে ভূগোলের প্রাকটিক্যাল ল্যাব। চুরমার করা হয়েছে ল্যাবের সরঞ্জাম। বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্লাসরুমের সিলিং ফ্যানও। স্কুলের লাইব্রেরি রুমের আলমারি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল বই। বালুরঘাটে জয়চাঁদ লাল প্রগতি বিদ্যাচক্র উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়েছিল বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের। ওই স্কুলের একটি সূত্রে দাবি, ঘটনায় জড়িয়ে রয়েছে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাই। মাধ্যমিক পরীক্ষায় কড়া গার্ড দেওয়া হয়েছে স্কুলটিতে। এমন অভিযোগ ছিল। কড়া গার্ড, টুকলি করতে বাধা-এরকম নানা বিষয় নিয়ে বারবার পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে স্কুলশিক্ষকদের ঝামেলা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। ওই ঘটনার কথা জয়চাঁদ লাল প্রগতি বিদ্যাচক্রের তরফে জানানো হয়েছিল বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।
জয়চাঁদ লাল প্রগতি বিদ্যাচক্রের প্রধান শিক্ষক পুলক বসাক জানান, গোটা ঘটনায় জড়িয়ে রয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাই। রাগের বশে তারা পরে এসে এই কাজ করেছেন বলে দাবি তাঁর। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৃজিত সাহা। তাঁর দাবি, পরীক্ষার শেষে পরীক্ষার্থীরা ভাঙচুর চালালে তিনি নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নিতেন। কিন্তু পরীক্ষার পর সব ঠিক ছিল। পরীক্ষার্থীরা বাড়ি চলে গিয়েছিল। রাতে স্কুল বন্ধ থাকার সময় পরীক্ষার্থীরা ফিরে এসে এমনটা করবে তা মানতে নারাজ তিনি। গোটা ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, সেই বিষয়ে ঠিকমতো তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।