উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী (West Bengal CM Suvendu Adhikari)। আপনি কী হিসাবে দেখছেন ? এর উত্তরে বালিগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বললেন, "এখনই দেখার মতো হয়নি কিছু। সময় বলে দিক। আরও সময় যাক। আমি একটা কথা বললাম, সেটা প্রয়োগ হল কি না...অনেক ব্যাপার আছে।" বিরোধী দলনেতা হিসাবে এদিনই বিধানসভায় আসেন শোভনদেব।

Continues below advertisement

এবিপি আনন্দর প্রতিনিধি তাঁকে প্রশ্ন করেন, মন্ত্রী হিসাবে আসতেন, আর আজ বিরোধী দলনেতা...। এর উত্তর তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক বলেন, "আমার রাজনৈতিক জীবন হল...'৯১ সাল থেকে এই বিধানসভায় আসছি। আমি বিরোধী দলে থেকেছি দীর্ঘ সময়। ২০১১ সাল পর্যন্ত। তারপরে আবার সরকারি দলে থেকেছি। সেখানেও আমি চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছি সরকারি দলে এসে প্রথমবার। তারপরে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সব পদ নেওয়া হয়ে গেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দলের সঙ্গে আলোচনা করে নেব। আর যেটা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে তখন নিজে নেব।" তাঁর সংযোজন, "আমি ডিমান্ড করেছি, যখন ওরা ছিল বিরোধী দলে যে... বিরোধী দল কোনও কনস্ট্রাক্টিভ বিরোধিতা করে না। আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করার চেষ্টা করব।"  

এবার বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এখন রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত ঘাসফুল শিবির। দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পরাস্ত হয়েছেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই চরম দুর্দিনেও তাদের একাধিক হেভিওয়েট নেতা এবারও জয়ের মুখ দেখেছেন। সেই তালিকায় ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো মুখ রয়েছে। এবার বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে শোভনদেবকে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল। সেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ৬১ হাজার ৪৭৬ ভোটে বিপুল জয়লাভ করেছেন তিনি। তাঁর মোট প্রাপ্ত ভোট ছিল- ১০৮৪৮১। অন্যদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শতরূপা পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ৫টি ভোট। বিপুল এই জয়লাভের পর দল তাঁকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছে। এবার বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সঙ্গী তিনি। আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্ব দল বিধানসভায় কীভাবে এগোয় সেদিকে নজর থাকবে রাজ্যবাসীর। Sovandeb Chattaopadhyay in West Bengal Assembly 

Continues below advertisement