কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: SSC-র ২০১৬-র চাকরিহারাদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হাজরা মোড়। এদিকে আজ হাইকোর্টে টেট মামলার শুনানি। একইদিনে আজই আবার SSC-র অযোগ্যদের মাইনে ফেরত নিয়েও ফের মামলা শুনবে হাইকোর্ট। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে গর্জে উঠল SSC-র ২০১৬-র চাকরিহারারা। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু। 'কেন নাম নেই তালিকায় ?  আমাদের গুলি করে মেরে দিক মুখ্যমন্ত্রী ..' রাস্তায় শুয়ে বিস্ফোরক দাবি ! টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হল চাকরিহারা বিক্ষোভকারীদের।

আরও পড়ুন, বিরোধীদের থেকে বেশি 'এই লোকেদের ভয়' পান কল্যাণ ! দলেরই একাংশকে নিশানায় পাশে পেলেন কুণালকেও ?

যারা চাকরিহারা, যাদের এখনও DI-র তালিকায় নাম নেই, স্কুলে যেতে পারছেন না, সেই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা রীতিমত রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এবং তাঁদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গোটা বিষয়কে হস্তক্ষেপ করতে হবে। সুরক্ষার্থে ইতিমধ্য়েই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পথের রাস্তা ব্যারিকেডের পর ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। আটকে দেওয়ার ফলে এদিন চাকরিহারা আন্দোলনকারীরা হাজারার মোড়েই বসে পড়েছেন। এবং তাঁরা বলছেন, অযোগ্য বলে চিহ্নিত করে তাঁদের দেওয়া হচ্ছে ! কিন্তু তাঁরা অযোগ্য নন। এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন চাকরিহারা বিক্ষোভকারীরা। 

সাংবাদিক: আপনাদের অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা যোগ্য তাঁরা করছেন। আপনাদের OMR মিসম্যাচে আপনাদের প্রত্যেকের নাম এসেছে।.. কিন্তু কোন যুক্তিতে আপনারা আবার স্কুলে ফিরে যাওয়ার দাবি করছেন ?

 চাকরিহারা : প্রথমত বলি এই যে OMR মিসম্যাচ হয়েছে, আমরা যে OMR-এ পরীক্ষা দিয়েছিলাম, স্কুল সার্ভিস কমিশন তাঁর তত্ত্বাবধান নিয়েছে। SSC-র ডেটা অনুযায়ী তার সার্ভারে যে নাম্বার আছে, সেই নাম্বারের ভিত্তিতে আমরা সবাই নিয়োগ পেয়েছি। অ্যাপয়ন্টমেন্ট লেটার পেয়েছি। স্কুলে শিক্ষাকতা করেছি। 

সাংবাদিক: ..তফাৎ ছিল, যারা সাদা খাতা জমা দিয়েছিল..

 চাকরিহারা : এই যে তফাৎ , তফাৎ যখন আছে, আদালতই একমাত্র সমাধানের রাস্তা। আদালত যে বলছে, সিবিআই যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে ওএমআর ডিসপোর্ট এর কথা বলা হচ্ছে, সেই তথ্যাদির সত্য এখনও প্রমাণ হয়নি, বা প্রমাণ আদৌ হবে না..

সাংবাদিক: আপনারা কী করবেন এখন ?

 চাকরিহারা : আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনারা একটা সময় দিয়েছেন।আমাদের পিছন দিকে ফিরে আর তাঁকানোর নেই। আমরা খাদের কিনারায় নয়, প্রকৃত অর্থে খাদে পড়ে রয়েছি। তাই আমরা হয়তো ব্যারিকেড ভেঙে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আমাদেরকে যেতে হবে। আমাদের আমরণ অনশনে যেতে হবে। কারণ এরপর আমাদের মৃত্যুবরণ করা ছাড়া, আর কোনও রাস্তা নেই।