কলকাতা : পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে হাজিরা দিতে CGO কমপ্লেক্সে হাজির সুজিত বসু। সকাল ১০.২৬ মিনিটে CGO কমপ্লেক্সে এলেন দমকলমন্ত্রী। হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল যে, সকাল ১০.৩০ টার মধ্যে যেন তিনি হাজিরা দেন ED দফতরে। সেই নির্দেশ মেনে সময়ের ঠিক আগে CGO-তে পৌঁছে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু ও দুই আইনজীবী। এই মামলায় এর আগে সুজিত বসুকে ৩ বার নোটিশ করা হয়েছিল। তাঁর বাড়িতে ২ বার তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়।

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ED নোটিশ জারি করে তলব করেছিল দমকলমন্ত্রীকে। কিন্তু তিনি ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। ED-কে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, 'প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রচারে ব্যস্ত, বারবার নোটিস দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে।' ভোটের সময় এমন হেনস্থার অভিযোগ তুলে ED-কে চিঠি পাঠিয়েছিলেন দমকলমন্ত্রী। ED-র কাছে তিনি আবেদন জানান, ভোট শেষ হওয়ার পর মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে যেন তাঁকে ডাকা হয়। কিন্তু মে মাসের শুরুতেই, অর্থাৎ ১ তারিখে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাজিরা দিতে আসেন। 

কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) সূত্রে খবর, সুজিত বসুর বাড়িতে, তাঁর ছেলে সমুদ্রের রেস্তোরাঁতে, হোটেলে, পাবে, সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে একাধিক তথ্য পাওয়া গেছিল। ED -র দাবি দক্ষিণ দমদম পুরসভার যে নিয়োগ হয়েছিল তা  বেআইনি ভাবে করা হয়েছিল। এই বিষয় নিয়ে সুজিত বসুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই নোটিশ জারি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।  আরও পড়ুন - পুরসভায় নিয়োগ-দুর্নীতি ! রাজ্যের এই দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীকে তলব ED-র

Continues below advertisement

উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের তলব করেছিল ইডি। এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পাশাপাশি খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করেছিল ইডি। এর আগে এই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুর বাড়ি-অফিস এমনকি তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চলেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সুজিত বসুর স্ত্রী-মেয়ে-ছেলে-প্রাক্তন জামাইকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের সময় অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছিল CBI। তল্লাশির সময় অয়ন শীলের অফিস থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু ওএমআর শিট ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। আর এখান থেকেই পুরসভার নিয়োগের দুর্নীতির হদিস পান তদন্তকারীরা। তদন্তে নেমে অনেককে গ্রেফতারও করেন তদন্তকারীরা। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান তাঁরা। তারপর তদন্তে নামে ইডিও। আর এখান থেকেই ফাঁস হয়ে যায় সবকিছু। CBI আধিকারিকরা জানান, অয়নের মাধ্যমে প্রায় ১৬টি পুরসভায় নিয়মবহির্ভূত ভাবে অনেককে চাকরি দেওয়া হয়েছে।