বিজেন্দ্র সিংহ, দীপক ঘোষ ও অর্ণব মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা:ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এবং তার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জানাতে হবে হলফনামা দিয়ে। SIR মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। আদালতে জানাল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার বলে, SIR-এ নাম বাদ যাওয়া মানে নাগরিকত্ব খারিজ নয়।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, বাড়ছে বিধবা ভাতা-বার্ধক্য ভাতা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, “আগের সরকারের কাছে করা অ্যাপ্লিকেশনগুলি নিইনি”, কারা পাবেন এই 'নতুন ভাতা' ?

Continues below advertisement

ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। জমা দিতে হলে হলফনামা। SIR মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গে SIR পর্বে সব মিলিয়ে বাদ পড়েছে ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম। বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন শোনার জন্য, ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাইব্য়ুনালে আবেদন নিষ্পত্তির গতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।  মঙ্গলবার, অধীর চৌধুরীর দায়ের করা মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর RTI থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে, কংগ্রেসের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান-ট্রাইব্যুনালে ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার আপিল বিচারাধীন রয়েছে।এর মধ্যে ৭ লক্ষ আবেদন নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এবং ৩১ লক্ষ আবেদন নাম বাদ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ৮৩ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে।যার মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩টি ক্ষেত্রে নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তির কাজ আগে শেষ করা উচিত। কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের আগেই ট্রাইব্যুনালের উচিত নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলি নিষ্পত্তি করা।সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার স্পষ্টভাবে বলে, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মানেই নাগরিকত্ব খারিজ নয়। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা যায় না। এদিন তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করার সময় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার ৩১টি কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরেন।যেখানে জয়ের ব্যবধান ওই কেন্দ্রগুলিতে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার চেয়েও কম। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায়, আপনারা কি নির্বাচনী মামলা দায়ের করেছেন? নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী উত্তর দেন, মাত্র ২টি আসনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটি আসনে জয়ের ব্যবধান যেখানে ৩১৬, সেখানে ৮ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে কতজন ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন? ধরুন, ১০০ জনের নাম বাদ পড়েছে এবং জয়ের ব্যবধান ৫০; সেক্ষেত্রে যদি ৬০ বা ৭০ জন ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন, তবে সেই আপিল নিষ্পত্তির বিষয়টি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

তৃণমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী তখন বলেন, আপিল নিষ্পত্তির গতি অত্যন্ত ধীর।  কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে জনসমক্ষে কোনও তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না; আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানতে পারছি না। কংগ্রেসের দেওয়া RTI-এর তথ্য গ্রহণ করার পাশাপাশি সেই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বিচারাধীন আবেদনগুলির বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে হবে। হলফনামাায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে অন্তর্ভুক্তি এবং বাদ দেওয়ার জন্য কতগুলি আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া, ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তাও কমিশনকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ৩১টি বিধানসভা আসনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আদালত কেবল ওই ৩১টি আসন নিয়ে চিন্তিত নয়, বরং সমস্ত আপিলের নিষ্পত্তি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেয হওয়া দরকার।নির্বাচন কমিশন আদালতে জানায়, তারা ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট জমা দেবে।