কলকাতা: মহারাষ্ট্র মডেলের পুনরাবৃত্তি পশ্চিমবঙ্গে? জোর জল্পনা রাজনীতিতে। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ৫০ জন বিধায়ককে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় স্পিকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। আর তাতেই প্রশ্ন জোরাল হচ্ছে, মহারাষ্ট্রে যেমন উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে শিবসেনা বেরিয়ে গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গেও কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূল? ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তাপস। ঋতব্রতর পরই বিধানসভায় ঢুকলেন তিনি। (Tapas Roy on Ritabrata Banerjee)

Continues below advertisement

বিধানসভায় সই জালকাণ্ডে পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙনের ইঙ্গিত দেখা গিয়েছিল। ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহাই বিষয়টি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন বলে জানান মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পরই ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। আর তার ২৪ ঘণ্টার মুখেই অস্তিত্ব সঙ্কটে। মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় পৌঁছে যান ঋতব্রত। আর তাঁর ঠিক পিছু পিছুই বিধানসভায় পৌঁছন তাপস। (TMC News)

শুধু তাই নয়, এদিন সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তাপস। তিনি লেখেন, 'তৃণমূল ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হল তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে ঋতব্রত। খেলা হবে'।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, আর জি করের নির্যাতিতাকে নিয়ে পোস্টের জের

বিধানসভায় পৌঁছে তাপস বলেন, "তৃণমূলের শোচনীয় অবস্থা। দু'টো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। মমতাকেও ডিফাই-ডিনাই, অভিষেককে তো বটেই। এরকম একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর এক মাসও হয়নি। এটা হবে, এটা ঘটবে। কারণ তৃণমূল নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে, গুজরাত, বিহার, দিল্লি থেকে অরাজনৈতিক লোকজনকে নিয়ে এসে রাজ্যসভা, লোকসভায় পাঠানো। এতদিন দমবন্ধ পরিস্থিতিতে সহ্য় করেছে। এখানেও কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেয়ের... মন্ত্রিসভা যারা ছিল, তারা অরাজনৈতিক। রাজনীতির লোকই নয়। একটা আধটা হলে হতো। সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।"

আরও পড়ুন: বিজেপি-তে নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না? দল ছাড়ছেন একসময়ের ‘সিঙ্ঘম’, আলাদা পার্টি গড়বেন

কিন্তু চাইলেই কি তৃণমূলের দখল নিতে পারেন ঋতব্রত? এক্ষেত্রে নিয়ম কী? তাপস বলেন, "পরিষদীয় দলের বিধায়কদের অধিকাংশ যদি সই করে যদি তাদের নেতা নির্বাচিত করে, যদিও আজ স্পিকার স্যর নেই। তিনি এসে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু বেশির ভাগ যদি চায়, সেক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে।" এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এমন ঘটনা ঘটেনি। কোনও দল বেদখল হয়ে যায়নি। তাপসের দাবি, সেই সময় তৃণমূল বলে কোনও দল ছিল না। তাই কিছু মিলছে না। তাপস জানিয়েছেন, রাজ্যে মোট বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ২৯৪। সই ঠিক থাকলে ৩০ জনের সমর্থনেই বিরোধী দলনেতা হওয়া যায়। ৫০-৫২ জনের সমর্থন থাকলে আর কোনও সন্দেহই থাকার কথা নয়।

তাপস জানিয়েছেন, স্পিকার না থাকলে সচিবালয়ে চিঠি দিতে পারেন ঋতব্রত। তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন ঋতব্রত-সন্দীপনদের পক্ষে থাকলেই খান খান হয়ে যাবে দলটি। তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা ঋতব্রতর সঙ্গে যাবেন, না আদি তৃণমূলেই থাকবেন, তা আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এর আগে, মহারাষ্ট্রে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়। উদ্ধব ঠাকরের শিবির ভেঙে, বিদ্রোহীদের ভাঙিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। শিবসেনা খান খান হয়ে দু'টি পৃথক দলের সৃষ্টি হয়- শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে) এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)। তৃণমূলের তেমন পরিণতি হয় কি না, দেখার।