কলকাতা : তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিয়মভঙ্গ ও নজরদারির অভাবের অভিযোগ উঠছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘বেহরা ব্রাদার্স’-নামে একটি সংস্থাকে জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ শুরুর আগে ও পরে কলকাতা পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ছাড়পত্র দেয়। প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি সব নিয়ম মানা হয়েছিল? কলকাতা পুরসভা কি তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে করেছিল? 

Continues below advertisement

পেটের দায়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গোডাউন তৈরি করছিলেন শ্রমিকরা। কিন্তু কে জানত, এই নির্মীয়মাণ গোডাউনটি এভাবে পরিণত হবে মৃত্যুফাঁদে ! কারও মুখে উঠে আসছে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কেউ বলছেন নির্মাণকাজের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোয় প্রাণের বিনিময়ে মাশুল  গুনতে হল। এক অভিযোগকারীর কথায়, 'এই বেহরা অ্যান্ড কোম্পানি এর বিরুদ্ধে কমপ্লেন করা আছে পোর্টকে। পোর্টকে বারবার বলেছি বেহরা অ্যান্ড কোম্পানি বেআইনি নির্মাণ করছে। এখানের কাউন্সিলর ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের টোটাল গোডাউনটা বেআইনি করে, টাকা খেয়ে টোটাল গোডাউন...২০১৫ থেকে আমরা অনলাইনে দেখেছি ... ২০২৬ অবধি শুধু ২টো গোডাউন স্যাংশান হয়েছে তারাতলা রোডে। বাকি সব গোডাউন, সব বেআইনি নির্মাণ।' 

তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভাঙল নির্মীয়মান গোডাউন, কীভাবে হল এমন দুর্ঘটনা? গাফিলতি কার? কী বলছেন নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা 

Continues below advertisement

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, 'এটা ৩ তলা ছিল। দু'টো হয়ে গেছিল, তৃতীয় ও দ্বিতীয় তলা হয়ে গেছিল, প্রথমটা চলছিল। পুরোটা বসে গেছে। ৫০ জন লোক আছে।' তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের ওপর এই গোডাউন বিপর্যয়ের পিছনে কার গাফিলতি? এই গোডাউনটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট অথরিটির কাছ থেকে ইজারা নিয়েছিল ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামে একটি সংস্থা। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪-এর পয়লা অগাস্ট বেহেরা ব্রাদার্সকে বহুতল গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ তৈরির জন্য প্রায় ৬ হাজার ৬৮৯ বর্গমিটার জায়গা ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। যে কোনও নির্মাণকাজ শুরুর আগে, কলকাতা পুরসভার থেকে অনুমতি ও ছাড়পত্র নিতে হয় ঠিকাদার সংস্থাকে। এছাড়াও, নির্মাণ শেষ হওয়ার পরেও ঠিকাদার সংস্থাকে নিয়মকানুন মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার কথা। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, 'প্রাথমিকভাবে আমাকে যেটা KMC থেকে বলা হয়েছে। ১৭.০১ ২০২৬-এ এই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মালিক, SMPA, লিজি শম্ভুনাথ বেহেরা, পার্টনার অফ বেহেরা ব্রাদার্স। আমি আইনি পদক্ষেপের কথা কালকে বলব। প্রাথমিকভাবে KMC-র ইঞ্জিনিয়াররা আমাদের জানিয়েছেন, ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান। বাকিরা টেকনিক্যাল লোকেরে কাজ করছেন, রাতে রিপোর্ট পেয়ে যাব, আমি বিধানসভায় জানাব, যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।' অন্যদিকে, বেহরা ব্রাদার্সের তরফে এক মধ্য়স্থতাকারী কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের নথি দেখিয়ে দাবি করেছেন, সমস্তই নাকি নিয়মমাফিকই করা হচ্ছিল। এতবড় গোডাউন তৈরি হচ্ছিল, অথচ মাটি পরীক্ষাও হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। বেহরা ব্রাদার্সের কর্ণধারের এখনও দেখা মেলেনি।