কলকাতা : অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর আত্মীয়দের সম্পত্তি নিয়ে একের পর এক নোটিস ধরিয়েছে কলকাতা পুরসভা। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের মধ্য়ে কার্যত হুলস্থূল !
এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব অভিষেক বলেছেন, 'যাঁরা এসব প্রশ্ন করছেন, তাঁরা কলকাতা পুরসভাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়? আগে জিজ্ঞেস করে আসুন, তারপরে আমার থেকে উত্তর নেবেন। নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞেস করে আসুন কোনটা অবৈধ অংশ, যে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেবে, আমার থেকে উত্তর নিয়ে যাবেন।'
'মানুষের ক্ষোভ ছিল, এভাবে বিস্ফোরণ হবে বুঝিনি', বলছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়
একদিকে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের পাঠানো ১৭টা নোটিস। অন্যদিকে পুরসভারই অ্য়াসেসমেন্ট বিভাগের নোটিস। রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। এরপরই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়।
দেবরাজ-অদিতি প্রসঙ্গে নাম না করে বিকাশরঞ্জনকে কটাক্ষ কল্যাণের, কী লিখলেন সমাজমাধ্যমে?
কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস। কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তার থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন বহু নেতা।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরসভার নোটিস। কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি নিয়ে নোটিস। যাবতীয় বিধি মেনে কি তৈরি হয়েছে জোড়া বাড়ি? কোনও বাড়তি নির্মাণ যদি হয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে কি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের ২টি বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভা সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
