নয়াদিল্লি : আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়ি ও সংস্থার অফিসে তল্লাশির ঘটনায় এবার আঁচ পড়ল রাজধানী দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরের বাইরে ডেরেক ও ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র সহ ৮ তৃণমূল সাংসদ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। অমিত শাহের দফতরের বাইরে পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসা শুরু হয় তাঁধের। কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পরেই তৃণমূল সাংসদদের তুলে দেয় দিল্লি পুলিশ। তৃণমূল সাংসদদের টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়। এরপর তাঁদের গাড়ি করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।

Continues below advertisement

থানার বাইরে থেকে ফেসবুক লাইভ করেন মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, "আমাদের সবাইকে গ্রেফতার করে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে এসেছে। বাংলার মানুষ কাল দেখেছেন কীভাবে অমিত শাহর নির্লজ্জ পুলিশ, একটা ৭-৮ বছরের পুরনো কয়লা কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে, সেই অজুহাত দিয়ে ইডিকে প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের অফিসে ঢুকিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যত রাজনৈতিক তথ্য, যত আমাদের নির্বাচনী তথ্য...সার্ভে, প্রার্থীতালিকা...সবকিছু চুরি করার জন্য কীভাবে ইডিকে তারা প্রতীক জৈন এবং আইপ্যাকের অফিসে পাঠিয়েছে। যদি কয়লা কেলেঙ্কারির কিছু থাকত তাহলে ৭ বছর ধরে ঘুমাচ্ছিল তারা ? এখন এসআইআর চলছে, একমাস বাদে ভোট...হঠাৎ জেগেছে যে কয়লা কেলেঙ্কারি হয়েছিল। আর সাত বছরে তথ্য তারা এখন প্রতীক জৈনের কম্পিউটারের ফাইলের মধ্যে পাবে ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঘের বাচ্চা। কারো বুকের পাটা ছিল না ...ইডি হামলা চলাকালীন মমতাদি ভিতরে গিয়ে দেখিয়ে দিয়ে এসেছেন যে, ভাই তোমরা যদি আমাদের জিনিস চুরি করতে আসো, সেটা কিন্তু আমরা থামানোর যতটা চেষ্টা করার করব। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অমিত শাহর অফিসের বাইরে প্রতিবাদ করছিলাম, কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের টেনে-হিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে নিয়ে এসেছে। প্রত্যেকবার বিজেপি এটা করে। বাংলার মানুষ জবাব দেয়। এবারও যেন বাংলার মানুষ ঠিক সেভাবেই জবাব দেয়।"

Continues below advertisement

I PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ED হানার খবর পেয়েই গতকাল সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেরনোর সময় তাঁর হাতে দেখা যায় ফাইল ও ল্যাপটপ। ED-র অভিযান চলাকালীন পৌঁছে যান I PAC-এর সেক্টর ফাইভের অফিসেও। ভোটের মুখে কয়লাকাণ্ডের তদন্তে আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ED তল্লাশি ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।