কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তনের কিনারায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ। নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একইসঙ্গে মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামানের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আখরুজ্জামানের সমর্থনে ইতিমধ্যেই ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক লিখিত সমর্থন জানিয়েছেন। ৫৮ জন বিধায়কের পর সই করবেন আরও ৬ বিধায়ক, দাবি ঋতব্রতদের। স্পিকার বিদ্রোহীদের চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করলেই তৃণমূলে নতুন তৃণমূলের সূচনা হবে।
সকাল ১০টার পর থেকেই একে একে বিধানসভায় আসতে শুরু করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা। এরপর বিধানসভার নৌসের আলি কক্ষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শেষে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে সাদা কাগজে লিখে তাদের পরিষদীয় দলের পদাধিকারীদের নাম প্রস্তাব করেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা।
এদিন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান এদিন মন্তব্য করেন, 'আমরা ৮০ জন বিধায়ক একসঙ্গেই আছি। বিধানসভায় যাচ্ছি আমরা পশ্চিমবাংলার জনগণের জন্য়। সেখানে সই ডুপ্লিসিটি করার, যদি কেউ করে থাকে, আমি জানি না, অন্তত আমি কোথাও করি না, করে থাকে, অবশ্য়ই একটা ভুল কাজ। বিধানসভার কোনও বিধায়কের সই ডুপ্লিকেট করা হবে কেন?'
এর আগে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। কিন্তু বিধানসভায় দেওয়া সেই চিঠিতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগ করেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক। সেই ঘটনার জল গড়ায় বহুদূর। এরপরই আজ, বুধবার ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক আলাদা করে অধ্যক্ষের কাছে নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে। এর আগে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল চিফ হুইপ হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নাম জানানো হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে । কিন্তু প্রেক্ষাপট বদলের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো প্রস্তাবে দেওয়া এই সব নামও অতীত হয়ে গেল। প্রেক্ষাপট এর আগে বিধানসভার অধ্যক্ষকে দেওয়া তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠিতে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপ-দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সই জালিয়াতি নিয়ে সরব হন দলেরই দুই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেই দু'জনকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। এদিন বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রস্তাবে সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়। ডেপুটি লিডার বা উপদলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয় চার তৃণমূল বিধায়কের নাম। তাঁরা হলেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিন।
