কলকাতা: রাজ্যে তৃণমূলের ভয়ঙ্কর ভরাডুবি। শুধুমাত্র নির্বাচনী ভরাডুবি নয়, দল হিসেবে অস্তিত্বসঙ্কটও। বিদ্রোহী বিধায়করা নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। সেই মতো চিঠি দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকারকে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের তৈরি করা তৃণমূলের ‘মালিকানা’ বদল এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মমতার পরিবর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের প্রতিই বিদ্রোহীদের অনাস্থা প্রকট হচ্ছে ক্রমশ। (Mamata Banerjee)

Continues below advertisement

বুধবার তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়কের বৈঠক হয় বিধানসভায়। ওই বৈঠকে শামিল ছিলেন দলের বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাও। এর পর সকলের সই সম্বলিত একটি চিঠি জমা দেওয়া হয় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে, যাতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব রয়েছে। মুখ্যসচেতক করার প্রস্তাব রয়েছে আখরুজ্জামানকে। সূত্রের খবর, আরও ছ’জন চিঠিতে সই করবেন বলেও জানানো হয়েছে। (TMC News)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: সব কমিটি, শাখা সংগঠন ভেঙে দিলেন মমতা, ভোটের একমাসের মধ্যেই চুরমার তৃণমূল, নতুন করে দলগঠনের ভাবনা?

এর আগে, অভিষেকের সই করা যে চিঠি পৌঁছেছিল বিধানসভায়, তাতে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু অভিষেকের ওই প্রস্তাব একেবারে খারিজ করে দিলেন বিদ্রোহী বিধায়করা। নিজেদের পছন্দের নেতাকেই বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক করার প্রস্তাব দিলেন। বুধবার বিকেল ৪টের মধ্যে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। 

আরও পড়ুন: 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র টাকা ঢুকল অ্যাকাউন্টে, কত সংখ্যক মহিলা পেলেন?

তবে বিদ্রোহীদের এই বিদ্রোহ যতটা না মমতার বিরুদ্ধে, তার চেয়ে অনেক বেশি অভিষেকের বিরুদ্ধে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিন আগেই অভিষেককে ‘ক্রাউন প্রিন্স’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন ঋতব্রত। অভিষেক, সর্বোপরি আইপ্যাকের কার্যপদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। আরও অনেকেই অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, অনাস্থা প্রকাশ করেছেন অভিষেকের নেতৃত্বে। সূত্রের খবর, এদিন স্পিকারকে যে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা, তাতেও মমতার প্রতি আস্থা দেখানো হয়েছে। 

তবে একেবারে উল্টো সুর শোনা গিয়েছে মমতার ক্ষেত্রে। এদিনও বিধানসভায় ঢোকার মুখে সুতির বিদ্রোহী বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসকে বলতে শোনা যায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী।” তবে বিদ্রোহী বিধায়করা মুখে যা-ই বলুন, তাঁদের পদক্ষেপে তৃণমূল মমতার হাতছাড়া হওয়ার জোগাড়। তৃণমূলের টিকিটে, তৃণমূলের প্রতীকচিহ্ন জয়ী হওয়া বিধায়ক, যাঁদের মধ্যে প্রথমবার বিধায়ক হওয়া নেতাও রয়েছেন, তাঁদের এমন আচরণই বলে দিচ্ছে দলের রাশ আর মমতার হাতে নেই। তৃণমূলের মধ্যেই আর এক তৃণমূল গজিয়ে উঠেছে। শুধু অভিষেক নন, মমতাকেও উপেক্ষা করে বিদ্রোহের পথে হাঁটলেন তৃণমূলের এতজন বিধায়ক।