কলকাতা: দলীয় মুখপাত্র ঋজু দত্তকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল। আর সাসপেনশনের পই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ঋজু। সত্য বলেছেন বলেই কি তাঁকে সাসপেন্ড করা হল, প্রশ্ন তুলেছেন। ঋজু দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির মুখোমুখি হননি বলে সাসপেনশন নোটিসে জানিয়েছে তৃণমূল। যদিও ঋজুর দাবি, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জবাব পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। উত্তর না দেখেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুললেন। (Riju Dutta Suspended by TMC)

Continues below advertisement

শনিবার ঋজুকে ছ'বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। ঋজু দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির মুখোমুখি হননি বলে অভিযোগ করা হয়। আর তাতেই সোশ্য়াল মিডিয়ায় ফুঁসে উঠেছেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, 'আমার প্রাণপ্রিয় দল। যে দলকে আমার যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছি। নিরন্তর পরিশ্রম করেছি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। শুধুমাত্র নিজের কাজ ও পারফরম্য়ান্সের জোরে ধাপে ধাপে উপরে উঠেছি-কারণ আমি কোনও 'নেপো কিড' নই'। (TMC News)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাম-অতিবামেদের পাশে চান মমতা, ‘আপনার মতো চোর লায়াবিলিটি’, কড়া জবাব শতরূপের

তৃণমূলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঋজু। তাঁর কথায়, 'আজ আমার প্রিয় দলই আমাকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল! কেন? কারণ আমি সত্যিটা বলেছি। সাসপেনশনের নোটিসে বলা হয়েছে আমি নাকি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সামনে হাজির হইনি। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমি ০৯.০৫.২০২৬ তারিখ সকাল ১১:২৭-এ পার্টি হেডকোয়ার্টার (তৃণমূল ভবন)-এ আমার জবাব জমা দিয়েছি। সম্ভবত আমার জবাব পড়ার আগেই নোটিশটা টাইপ করা হয়ে গিয়েছিল'। নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ কিছু জানাননি ঋজু। তবে তিনি লেখেন, 'ধন্যবাদ, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস! আমি কথা দিচ্ছি---আবার দেখা হবে'।

 
 

আরও পড়ুন: কলকাতা পুরসভার গ্রুপ ছাড়লেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, নতুন সরকার শপথ নিতেই সিদ্ধান্ত, হঠাৎ কী হল?

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর বিজেপি-র প্রশংসা করেছিলেন ঋজু। ভোট পরবর্তী অশান্তি থেকে বাঁচতে বিজেপি-র সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "বিজেপি যে সৌজন্য, উদারতা দেখিয়েছে, যে সহযোগিতা করেছে, সেই ঋণ শো করতে পারবেন কি না, জানি না...যদি চাইত আমার গায়ে আবির লাগিয়ে দিতে পারত। আমার গাড়ি ভাঙচুর করতে পারত। কিন্তু তারা কী করেছে? সে এসে আমার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। বলেছে, একটু রাস্তাটা খালি কর। ঋজু দার গাড়িটাকে বার করে দে।" বিজেপি-র বিধায়করা তাঁর ফোন ধরেছেন, তাঁকে নির্ভয়ে তৃণমূল করতে বলেছে বলেও জানান। 

প্রকাশ্য়ে দলের নেতারা যে সব মন্তব্য করছেন, তা নিয়ে সেই সময়ই কড়া বার্তা দিয়েছিল তৃণমূল। কারও ব্যক্তিগত মতামতের সঙ্গে দলের অবস্থানের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়। এর পরই সাসপেন্ড করা হল ঋজুকে। তবে ঋজু একা নন। পরাজয়ের পর থেকে একে একে তৃণমূলের অনেকেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তৃণমূলের সদস্যতা ছেড়েছেন যুবনেতা সুপ্রিয় চন্দ। দলকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।