সনৎ ঝা, শিলিগুড়ি : পানিট্যাঙ্কিতে থেকে ফের গ্রেফতার ২ বাংলাদেশি নাগরিক। ধৃত এক ভারতীয় দালালও। নেপাল থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে গ্রেফতার হয়েছে ওই ৩ জন। মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেপাল হয়ে পানিট্যাঙ্কি দিয়ে ২ বাংলাদেশিকে দিল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনা ছিল দেবাশিস চক্রবর্তী নামে এক ভারতীয় দালালের, খবর পুলিশ সূত্রে। যে ২ বাংলাদেশীকে দিল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তাদের সঙ্গে এই দালালকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ২ বাংলাদেশির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতের টাকা এবং বেশ কিছু জাল নথি।
নেপাল থেকে পানিট্যাঙ্কি বর্ডার হয়ে দিল্লি যাওয়ার পথে দুই বাংলাদেশি-সহ এক ভারতীয়কে গ্রেফতার করেছে এস এস বি বা সশ্বস্ত্র সীমা বল। ধৃতদের মধ্যে দেবাশিস চক্রবর্ত্তী ভারতীয় নাগরিক। বাকি দু'জন বাংলাদশী নাগরিকের নাম জাহিদুল ইসলাম এবং সুশান্ত চন্দ্র দাস। ধৃত দুই বাংলাদেশির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতীয় টাকা-সহ জাল নথিপত্র। ধৃত ভারতীয় নাগরিক দেবাশিস চক্রবর্ত্তীকে জেরা করে এস এস বি জানতে পেরেছে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ৫০,০০০ টাকা মাথাপিছু নিয়ে সে দিল্লী পৌঁছে দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছিল। ধৃতদের খড়িবাড়ি থানার হাতে তুলে দেয় এস এস বি। ধৃতদের আজ শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হবে।
চলতি বছর অগস্ট মাসেও পানিট্যাঙ্কি থেকে গ্রেফতার হয়েছিল বাংলাদেশি নাগরিক
ওই বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল ভারতীয় আধার কার্ড। শিলিগুড়ির খড়িবাড়িতে ভারত-নেপাল সীমান্তে পানিট্যাঙ্কি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ওই বাংলাদেশি নাগরিক। জানা গিয়েছিল, ধৃতের নাম মহম্মদ মানিক। তিনি বাংলাদেশের লালমণিরহাটের বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ভারতীয় আধার কার্ড, বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়পত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স। বাংলাদেশের পরিচয়পত্রে ব্যক্তির নাম ছিল মহম্মদ মানিক, তিনিই ভারতীয় আধার কার্ডে হয়ে যান রাতুল খান। একই ব্যক্তির ২টি নাম। খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কি দিয়ে নেপালে ঢোকার আগে এই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে SSB. পরে তাঁকে গ্রেফতার করে খড়িবাড়ি থানা।
ভুয়ো আধার কার্ড দেখিয়ে নেপালে ঢুকতে গিয়ে SSB-এর হাতে ধরা পড়েছিলেন ওই বাংলাদেশি। অনুপ্রবেশ করে ভারতে ঢুকেই দালালের থেকে ভারতীয় পরিচয় পত্র জোগাড় করে ফেলেছিলেন তিনি। যেদিন ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাতে পেয়ে যান ভারতীয় আধার কার্ড। আর সেই ভুয়ো আধার কার্ড দেখিয়ে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত পার করতে গিয়েই হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক।