পার্থপ্রতিম ঘোষ, ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, রাজীব চৌধুরী, কলকাতা : প্রদেশ কংগ্রেস অফিস ভাঙচুরকাণ্ডে ৩ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতরা বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের সহযোগী বলে পুলিশ দাবি করেছে। যদিও এখনও অধরা রাকেশ সিং। এদিকে রাকেশ সিংহের নাম সামনে আসতেই অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপির। বিতর্কের মুখে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি নেতৃত্ব।

বিহারে কংগ্রেসের সভামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজের প্রতিবাদে কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে শুক্রবার তাণ্ডব চালায় বিজেপি। রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালি লেপে ঘটা করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন, কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাকেশ সিং! এমনকী তাণ্ডব চালানোর আগে, সোশাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

হামলার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে এন্টালি থানা। পুলিশের দাবি, ধৃতরা রাকেশ সিংয়ের সহযোগী। কিন্তু, হামলার পর একটা দিন কেটে গেলেও রাকেশ সিংকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, "পুলিশ বলছে আমরা গ্রেফতার করবই, পাতালে থাকলেও। আমরাও দেখতে চাই যে, কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। কোন শক্তি তাঁকে রেখেছে ? তিনি কি বিরোধী দলনেতার বাড়িতে আছেন ? কোথা থেকে ফেসবুক লাইভ করছেন ? কোনও পার্টি অফিসের উপরে আক্রমণের কালচার কংগ্রেস বিশ্বাস করে না। এই কালচার পশ্চিমবঙ্গে হোক, আমরা চাই না। তাই যদি হত, গতকালই বিজেপির দফতরে এসে আগুন লাগিয়ে দিতাম।"

অন্যদিকে, বিতর্কের মুখে শুক্রবারের ঘটনার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর মা-কে এ ধরনের উক্তির প্রতিবাদ হবে না ? বহু জায়গায় কর্মীরা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। আমরা তো বলেছি, প্রতিবাদ যেটা হয়েছে সেটা ঠিক হয়েছে। কিন্তু, কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা জ্বলছে, সেটা পার্টি এনডোর্স করছে না। কিন্তু, প্রতিবাদে পার্টি আছে।"

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ঘটনায় বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-সহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে, অস্ত্র আইন-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়। শুক্রবার রাতে রাকেশ সিংয়ের আলিপুরের বাড়িতে যায় পুলিশ। কিন্তু অভিযুক্ত বিজেপি নেতার খোঁজ মেলেনি। 

পুলিশ খুঁজে না পেলেও পালানোর অভিযোগ মানতে নারাজ রাকেশ সিংহের পরিবার। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহর মেয়ে সিমরান সিংহ বলেন, "না, না। উনি কোথাও পালিয়ে যাননি। পুলিশ নিজেদের মতো করে গল্প সাজাচ্ছে। কিন্তু পারেনি। কাল (পুলিশ) এসেছিল...জোর-জবরদস্তি ৫০-৬০ জন লোক ওঁকে (রাকেশ সিংহকে) অ্যারেস্ট করতে, কিন্তু সফল হয়নি।" 

শুক্রবার ভাঙচুর করে শনিবার কোথায় রাকেশ সিং? পুলিশ যখন হন্য়ে হয়ে খুঁজছে তাঁকে, তখন ফেসবুক লাইভে সাফাই দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা বিজেপি নেতার। এভাবে একটা বিরোধী দলের দফতরে ঢুকে, কার্যত গুন্ডাগিরির পর, এমন একটা ভাব যেন তেমন কিছুই করেননি!

পুলিশের খাতায় পলাতক। তারপরও বাড়িতে পুলিশ যাওয়া নিয়েও নিশানা করেছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা। 

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, "পুলিশ নিশ্চিতভাবে খুঁজছে। এই হামলা আমরা বরদাস্ত করি না। এদের প্রত্যেককে ধরা হবে।"    

রাকেশ সিংকে গ্রেফতারির দাবি জানিয়ে এদিন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস।