ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা : বকেয়া DA-র দাবিতে ৭১ দিনে পড়ল শহিদ মিনারে (Shahid Minar) একাংশের রাজ্য সরকারি কর্মীদের (State Government Employees) ধর্না-অবস্থান। ডিএ-জট (DA Agitation) কাটাতে কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্যকে আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তা সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অনড় আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, স্থায়ী অর্ডার না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন (DA Agitation) চলবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। 

এদিকে, রাজ্য সরকারকে চাপে রাখতে আগামী সোম ও মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে (Delhi Jantar Mantar) অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি নিতে চলেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে ইতিমধ্য়েই আবেদন জানিয়েছেন DA-আন্দোলনকারীরা।  

ইতিমধ্যে DA জট কাটাতে তৎপর হয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্যকে আলোচনায় বসার নির্দেশ দিল আদালত। ইতিবাচক সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসুক, মন্তব্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির। DA-আন্দোলনকারীদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে ১২ ঘণ্টা সরকারি দফতরে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল রাজ্য় সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। এই অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্য় সরকারকে কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ১৭ এপ্রিলের মধ্য়ে মুখ্যসচিব, অর্থসচিব সহ দ্বায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের, কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। 

সরকারি কর্মচারীদের কর্মবিরতির বিরোধিতায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন এক আইনজীবী। সেই মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি বলেন, কর্মচারীরা বারবার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। সরকারের পদক্ষেপের প্রয়োজন। বৃহস্পতিবারের কর্মবিরতির কারণে ৪৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। অনেক মানুষ দূর থেকে ট্রেনে, বাসে করে আসেন। তাঁরা কাজ হবে না ফেরত যাবেন। সবাই তো আর্থিক ভাবে সেভাবে সক্ষম নন। এই পরিস্থিতির একটা সমাধান দরকার। 

আবার যদি ১৫ দিন পর, এই ধরনের কর্মবিরতি বা পেনডাউন হয়, তাহলে কী হবে ? এই মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কর্মচারী সংগঠনগুলি কি চূড়ান্ত নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারছেন না ? এরপর তিনি বলেন, কর্মচারী সংগঠনের তরফ থেকে তিন জনের নাম দিতে হবে। এই তিনজনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মুখ্যসচিব, অর্থসচিব সহ দ্বায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা। ইতিবাচক সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসুক।

আরও পড়ুন- ভরা বাজারে তাড়া করে তৃণমূল নেতাকে খুন নদিয়ায় ! প্রবল চাঞ্চল্য