কলকাতা: আর্থিক অনিয়ম নিয়ে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলে গৃহযুদ্ধ। কাউন্সিলের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে চিঠি মেডিকেল কাউন্সিলেরই সদস্য কৌশিক বিশ্বাসের।
'রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া, শুধুমাত্র কাউন্সিলের নিজস্ব সিদ্ধান্তে বিলি হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। গত এক বছর ধরে প্রতিমাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা মাসোহারা দেওয়া হয়েছে ৩ কাউন্সিল সদস্যকে'বৈঠকে নিজেদের মাসোহারার এই প্রস্তাব আনেন সভাপতি সুদীপ্ত রায় ও সহ-সভাপতি সুশান্ত রায়। মাসোহারা কারা পাবেন এবং যোগ্যতামান কি হবে, তাও ঠিক করেন সুদীপ্ত রায় নিজেই। নিজেদের মাসোহারার প্রস্তাব, কাউন্সিল সদস্যরা নিজেরাই পাস করান। এছাড়া মেডিক্যাল কাউন্সিলে PE কমিটির বৈঠকে হাজির হলেই প্রতিবার প্রতি সদস্য এক হাজার টাকা করে ভাতা পান।এমনকি বোর্ড মিটিংয়ে হাজির থাকলে প্রতি কাউন্সিল সদস্যকে প্রতিবার ২০০০ টাকা করেও দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকারের থেকে অনুমতি নেননি রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তী। কাউন্সিলকে নিজেদের সদস্যদের মাসোহারা ও ভাতা দেওয়ার অনুমোদন কি রাজ্য সরকার দিয়েছে?' রেজিস্ট্রার বলছেন তিনি অনুমতি নেননি স্বাস্থ্য ভবনের, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক, চন্দ্রিমা ভট্টাচাৰ্য কে ইমেল কৌশিক বিশ্বাসের।
অপরদিকে, অবসরের পাঁচ বছর পরেও পদে! পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারকে স্বেচ্ছায় পদত্য়াগ করার পরামর্শ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পদত্য়াগ না করলে, তাঁকে ওই পদ থেকে সরানোর নির্দেশিকা জারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্য় মেডিক্য়াল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারকে পদত্য়াগ করতে, সময়সীমা বেঁধে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য় মেডিক্য়াল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারকে স্বেচ্ছায় পদত্য়াগ করার পরামর্শ দেন প্রধান বিচারপতি। পদত্য়াগ না করলে, তাঁকে ওই পদ থেকে সরানোর, নির্দেশিকা জারির নির্দেশ দেন তিনি। রাজ্য় মেডিক্য়াল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে মানস চক্রবর্তীর থাকা নিয়ে বিতর্ক অনেকদিনের। পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে মানসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর। অভিযোগ, তারপর থেকে, কাউন্সিলকে অন্ধকারে রেখে, মানস চক্রবর্তীকে অবৈধভাবে রেজিস্ট্রার পদে পুনর্নিয়োগ করে আসছেন কাউন্সিলের সভাপতি, তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায়।
আর জি কর-কাণ্ডের পর, সেই পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে, প্রশ্ন তোলে চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন। উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়, মানস গুমটাদের ছবি এসবের মধ্য়ে, ২০ নভেম্বর মানস চক্রবর্তীকে রাজ্য় মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদ থেকে অবিলম্বে সরানোর নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্যভবন। কাউন্সিলকে দেওয়া চিঠিতে, স্বাস্থ্য দফতরের সিনিয়র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি লেখেন, রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে যে, সরকারের অনুমতি না নিয়ে মানস চক্রবর্তীকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে। যা আইনের পরিপন্থী। রাজ্য সরকারের নির্দেশ, অবিলম্বে নিয়োগ বিধি মেনে নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ করতে হবে। তারপরও নিজের পদে রয়েছেন রেজিস্ট্রার। এর মধ্য়ে, মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার পদে, মানস চক্রবর্তীর এই বহাল থাকাকে অবৈধ বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। তার প্রেক্ষিতে, বৃহস্পতিবার, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, অবসরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও রেজিস্ট্রারকে ওই পদে রেখে দেওয়া হয়েছে। ওই পদে থাকার কোনও অধিকার রেজিস্ট্রারের নেই।