কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সুদীপ চক্রবর্তী, শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কলকাতা : কেউ ভেবেছিলেন পছন্দের পেশা বেছে নেবেন, ভাল চাকরি করবেন, মা-বাবার জমানো পুঁজি খরচ করে কেউ কেউ পড়াশোনাও করেছেন বেসরকারি কলেজ থেকে। কিন্তু চাকরি-বাকরি করে পরিবারকে ভাল রাখার স্বপ্ন এক দূরস্ত। কারণ, স্বপ্ন পূরণের জন্য় দরকার ছিল একটা চাকরি। যা বহু উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাই পাননি। অগত্য়া  রাজ্য় সরকারের দেড় হাজার টাকার ভাতার জন্য় দাঁড়াতে হয়েছে লাইনে। ভাতার লাইন তাই দেখিয়ে দিচ্ছে কর্মসংস্থানের এই কঙ্কালসার চেহারাটা। ডাক্তারি পড়ুয়া থেকে ইঞ্জিনিয়ার, এম-টেক থেকে ফ্যাশন ডিজাইনার, সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করিয়েছে দেড় হাজারের প্রতিশ্রুতি।                          

Continues below advertisement

MBA পাশ করেও কর্মহীন                

যেমন, কেউ যুবসাথীর আবেদন করেছেন এমবিএ পাশ করার পরও। এমবিএ-র মতো দামি কোর্স করার পরও বেকারত্বই হয়েছে সঙ্গী। 'যুব সাথী'র আবেদন করে এখন মাস-গেলে দেড় হাজারই ভরসা। হতাশার সুর গলায়, MBA হয়ে গেছে, বসে আছি, কী করব? তবে তাঁর সাফ কথা, চাকরির বিকল্প হতে পারে না ভাতা। 'চাকরি পেলে অনেকটা বেশি টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু এখন এটা অল্প হলেও একটা সেভিংসের মতো।'    

Continues below advertisement

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও জোটেনি চাকরি

আবার রায়গঞ্জের বাসিন্দা 'যুব সাথী'র আবেদনকারী অনিন্দ্য চক্রবর্তী বলছেন, তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে এনআইটি থেকে পাশ করেও চাকরি পাননি। দিল্লি থেকে পড়াশোনা করে এসেও কাটছে বেকার জীবন। 

'ভাতা'র লাইনে সারি সারি শিক্ষিত মুখ

শহর থেকে জেলা, মঙ্গলবার একই ছবি দেখা গেল সর্বত্র। কেউ MBA পাস করে বসে আছেন, তো কেউ বি টেক, যাঁদের ইন্টারভিউয়ের লাইনে থাকার কথা ছিল, তাঁরা 'যুব সাথী'র রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এমনও অনেকে আছেন, যাঁরা লজ্জায় নিজে আসতে পারেননি। পাঠিয়েছেন বাবা-মাকে। একে সমাজের কাছে লজ্জা, তার উপরে বেকার ভাতার লাইনে দাঁড়ানো, সব মিলিয়ে মুহ্যমান অনেকেই। কিন্তু এই লজ্জা কি কোনওদিন ঘুচবে?  উত্তর জেবে সময়।   

'যুব সাথী'র ভাতা নিতে কেন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে উচ্চ শিক্ষিতদের? এই নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। শাসককে বিঁধছে বিরোধীরা, পাল্টা জবাবও আসছে। কিন্তু লম্বা লাইন বুঝিয়ে দিচ্ছে রাজ্যের যুব সমাজ কত অসহায়।