কলকাতা: প্রথম দফার নির্বাচন মিটেছে সবে। ফলঘোষণার আগে আরও একটি দফায় ভোটগ্রহণ বাকি। তার আগে থেকেই নানা রকম ভোটের ভবিষ্যদ্বাণী সামনে আসছে। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের শাসক-বিরোধী, দুই শিবিরই। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও এবার সেই দলে শামিল হলেন। তৃণমূল কয়টি আসন পেতে চলেছে, আগাম ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন তিনি। (Abhishek Banerjee Seat Election Prediction)

Continues below advertisement

শনিবার বসিরহাটে প্রচারে গিয়ে এমন ভোটের ভবিষ্যদ্বাণী করলেন অভিষেক। বললেন, "আমি আপনাদের দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, গত পরশু প্রথম দফায় ভোট হয়েছে। তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে। ২৯ তারিখ ডাবল সেঞ্চুরি হবে আর সংখ্যা কোথায় গিয়ে থামবে আমি নিজেও জানি না। বসিরহাট দক্ষিণ, বাদুরিয়া, হিঙ্গলগঞ্জ, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, হাড়োয়ায় এমন ভাবে জবাব দিতে হবে, যাতে মানুষের সঙ্গে বেইমানি করার আগে বিজেপি নেতারা দু'বার ভাবেন।" (TMC News)

আরও পড়ুন: এবার যদি কোনও গন্ডগোল হয়...২য় দফা ভোটের আগে স্পষ্ট বলে দিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

Continues below advertisement

তবে একা অভিষেক নন, ভোটের ভবিষ্যদ্বাণী শোনা যাচ্ছে প্রায় সব দলের নেতাদের মুখেই। অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যে প্রচারে এসে দলের সম্ভাব্য ভোটপ্রাপ্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য়, "এবার অসমে ১০০ আসন পাব, বাংলায় পাব ২০০ আসন। অসমে সেঞ্চুরি হবে, পশ্চিমবঙ্গে ডাবল সেঞ্চুরি। ৪৫-৫০টা প্রচারসভা করেছি। সুনামি নেমেছে। ২০০-র উপরে গেলেও আশ্চর্য হব না।"

আরও পড়ুন: ভোটের আগে কলকাতায় ভয়ঙ্কর আগুন ! সন্তোষপুর রেল স্টেশনের পাশের বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

এই ভবিষ্যদ্বাণী, পাল্টা ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, "বাংলায় স্বাধীনতার সময় যা জনসংখ্যা ছিল, আজ কোথায় ঠেকেছে! আন্দাজে না বলে জনগণনা করে নিচ্ছেন না কেন? মন গড়া কথা না বলে, কত হিন্দু, কত মুসলিম, তা ভাল বোঝা যাবে জনগণনা করালে। জাতগণনার কথা বলেছি আমরা। একটা তত্ত্ব খাড়া করা হচ্ছে। মেরুকরণের রাজনীতি হচ্ছে। আর কিছু হচ্ছে না।"

এদিন উত্তরপাড়ার সভা থেকে বিজেপি-কে কটাক্ষ করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও। বলেন, "দেখছেন বিজেপি কেমন ক্ষেপে গিয়েছে! খুব চাপ, দৌড়াদৌড়ি করছে! আজ নাকি ৫০টা হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে! আমরা তিনটে জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। ১৯টা মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের সব মন্ত্রী, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, সাঁজোয়া গাড়ি...সাথে ইডি, আয়কর, NIA, সব নিয়ে চলে এসেছে। আজ সকালে আমার খুব প্রিয় ভাই, মোটাভাই, সিআরপিএফ-কে নিয়ে, নন্দীগ্রামে যাকে ভোট লুঠ করতে পাঠিয়েছিল...তাকে নিয়ে মিটিং করে বলেছে, 'ভোট স্লো করে দাও, লোকে যেন ভোট দিতে না পারে!' ভবানীপুরে দায়িত্ব দিয়েছে। আমার বয়েই গিয়েছে। কাঁচকলা করবে। "