কলকাতা: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র (Basirhat Loksabha Constituency Election 2024) থেকে জয়ী তৃণমূলের হাজি নুরুল ইসলাম (Haji Nurul Islam Wins)। সন্দেশখালির অশান্তি এবং তার পরের ঘটনাক্রমের জেরে টানা শিরোনামে ছিল এই লোকসভা কেন্দ্র। বিজেপির তুরুপের তাস তথা সন্দেশখালির প্রতিবাদীদের অন্যতম মুখ রেখা পাত্র কি এখানে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে পারবে? বড় প্রশ্ন ছিল এটি। তবে এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, তাতে শেষ হাসি হাসলেন তৃণমূলের হাজি নুরুল ইসলামই। ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৪৭ ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির রেখা পাত্রকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন যাঁরা…এবার সন্দেশখালির অন্যতম ‘প্রতিবাদিনী’ মুখ রেখা পাত্রকে প্রার্থী করে চমক দেয় বিজেপি। উল্টো দিকে ছিলেন তৃণমূলের হাজির নুরুল ইসলাম। বামেদের হয়ে লড়াই করেন প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দার। মনোনয়ন জমা পড়েছিল আইএসএফের তরফেও। আখতার রহমান বিশ্বাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এই চিহ্নে। ১ জুন অর্থাৎ সপ্তম দফায় ভোটগ্রহণ হয় এখানে। সি-ভোটার লোকসভা ভোট শুরুর আগে যে জনমত সমীক্ষা চালিয়েছিল, তাতে দেখা যায়, এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। ১ শতাংশ ভোট স্যুইং হলেই ফলাফল বদলে যেতে পারে বসিরহাটে। তবে, সমীক্ষা যখন চলেছিল, তখনও পর্যন্ত যা পূর্বাভাস, তাতে তৃণমূল প্রার্থীর জয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এমন হাইভোল্টেজ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের দিকে নজর ছিল সকলেরই। ভোটের দিনওদফায় দফায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে  সন্দেশখালির পরিস্থিতি। 

২০১৯ সালের ভোটের ফলাফলগত বার বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী নুসরত জহান রুহি। বিজেপির সায়ন্তন বসুকে হারান তিনি।

‘২৪-র ভোটের ইস্যু...গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালির আকুঞ্জিপাড়ায় শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। রক্তাক্ত হন ইডি আধিকারিকরা। কার্যত তাড়া করে মারতে মারতে, এলাকা ছাড়া করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানদের। তারপরই বেপাত্তা হয়ে যান শেখ শাহজাহান। ইডির উপর হামলার ৫৫ দিন পর ২৯ ফেব্রুয়ারি মিনাখাঁ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। তত দিনে অবশ্য সন্দেশখালির বাসিন্দা, বিশেষত মহিলাদের প্রতিবাদের ছবি দেখে ফেলেছে গোটা রাজ্য। জোর করে জমি দখল থেকে শুরু করে নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে তুমুল বিক্ষোভে টালমাটাল হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। যদিও শাসক দলের তরফে দাবি করা হয়, এই পরিস্থিতির অনেকটাই সাজানো। তার পর অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিতর্ক, ভোটের দিন এমনকি তার পরও টানা তেতে রয়েছে সন্দেশখালি। লক্ষণীয় বিষয় হল, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই এলাকাকে কেন্দ্র করে এবার লাগাতার তীক্ষ্ণ প্রচার করে গিয়েছেন কেন্দ্র থেকে রাজ্যের বিজেপি নেতারা। পাল্টা দিয়েছে তৃণমূলও। তবে সব ভাল যার শেষ ভাল। আপাতত কি এমনই বলছেন হাজি নুরুল ইসলাম?

 

আরও পড়ুন:আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে জিতলেন শত্রুঘ্ন সিনহা