কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে কি ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ? এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। এর পর, ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন। এখনও পর্যন্ত ধাপে ধাপে যত নাম বাদ গিয়েছে, তাতেই ৯০ লক্ষের সংখ্য়াটি উঠে আসছে। (Bengal Voter List 2026)

Continues below advertisement

SIR-এর খসড়া তালিকায় প্রথমেই ৫৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছিল। সেই সময় ভোটারের সংখ্যা কমে হয় ৭ কোটি ৮ লক্ষ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার নাম বাদ যায়। নতুন নাম যুক্ত হয় প্রায় ২ লক্ষ। ফলে ভোটার সংখ্য়া কমে হয়ে ৭ কোটি ৪.৫ লক্ষ। অর্থাৎ প্রথমেই প্রায় ৬২ লক্ষ ভোটার কমে যায়। পাশাপাশি, আরও ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম তখনও 'বিবেচনাধীন' ছিল। শেষ পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত ৪৭ লক্ষ 'বিবেচনাধীন' ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি রয়েছেন ১৩ লক্ষ। যাঁদের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৪৫ শতাংশের নাম বাদ গিয়েছে। (Bengal SIR Row)

এই হারে চলতে থাকলে বাদ যেতে পারে আরও ২৭-২৮ লক্ষ ভোটারের নাম। আর সেক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটারের সংখ্যা হতে পারে ৬ কোটি ৭৬ লক্ষ। ২০২১ সালে এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ওই সংখ্যা ৭ কোটি ৬০ লক্ষ ছিল। ২০২১ সালের তুলনায় এবারে ৫৮ লক্ষ ভোটার কমতে পারে। ২০২৪ সালের তুলনায় কমতে পারে ৮৪ লক্ষ ভোটার। অর্থাৎ SIR-এ পাঁচ মাসে বাদ যাচ্ছে প্রায় ১২ শতাংশ ভোটারের নাম। 

Continues below advertisement

SIR-এ কত নাম বাদ যেতে পারে, তার সম্ভাব্য পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন বিভিন্ন রাজনীতিকরা। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, সঠিক পদ্ধতিতে SIR হলে, ১ কোটিরও বেশি নাম বাদ যাওয়া উচিত। সীমান্তে কাঁটাতার না থাকায়, গত ১০-১২ বছরে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি মুসলিমের প্রবেশ ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। 

সেই নিয়ে বিজেপি-কে একহাত নেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপি-র দলীয় কার্যালয় থেকেই সব ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে যেখানে তৃণমূলের পাল্লা ভারী, সেখানে বেশি করে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। লজিস্টিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে বিজেপি-র নাম ঢুকিয়ে, বাকিদের কেটে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

যাঁদের যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারেন। আগামী কাল থেকেই ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করতে পারে বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদিন ১ লক্ষ ৭৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে বলে সর্বোচ্চ আদালতে জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।