কলকাতা: বিজেপি জিততেই নবান্নের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। নবান্ন-সহ সরকারি অফিসে নজরদারি শুরু। ফাইল নিয়ে বেরনো আটকাতে বিশেষ নজরদারি। নবান্নে ঢোকা-বেরনোর রাস্তাগুলিতে নজরদারি চলছে। রাজ্যের যত সরকারি অফিস আছে, সেখান থেকে যাতে কোনও ফাইল লোপাট করা না যায়, তার জন্যই এমন পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। সরকারি কর্মীদের ব্যাগও দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিবের তরফে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছিল, কাগজ সরানো বা নথি নষ্ট যেন না হয়, তা দেখতে হবে। তার পরই এমন পদক্ষেপ। (Nabanna Office Central Force Protection)

Continues below advertisement

কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি, পুলিশও পৌঁছেছে নবান্নে। যত কর্মী ঢুকছেন এবং বেরোচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সার্চ করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, কোনও ফাইল নিয়ে ঢুকছেন বা বেরোচ্ছেন কি না। অন্য সরকারি অফিসগুলিতেও কড়া নজরদারি চলছে। নবান্নের সব ঢোকা-বেরনোর রাস্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে পুলিশও তল্লাশি চালাচ্ছে, যাতে সরকার বদলের মুহূর্তে কোনও ফাইল লোপাট না হয়ে যায়। সমস্ত সরকারি অফিসের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে কোনও ফাইল লোপাটও না হয়, নতুন কোনও ফাইল ঢোকানোও না যায়। (Central Force at Nabanna)

আরও পড়ুন: গণনাকেন্দ্রের মধ্যে রক্তারক্তিকাণ্ড, ভয়ঙ্কর অভিযোগ ব্যারাকপুরে, মার খেলেন তৃণমূলের তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, সুবোধ অধিকারী?

Continues below advertisement

যত সরকারি কর্মী ঢুকছেন, বেরোচ্ছেন ব্যাগে তল্লাশি চলছে। সূত্রের খবর, চিটফান্ড থেকে শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি, আরও কিছু কেলেঙ্কারি হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য ফাইলপত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার বদলের মুহূর্তে সেই সব ফাইল যাতে সরিয়ে ফেলা না যায়, নবান্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস থেকে যাতে কিছু বের করে নিয়ে না নেওয়া যায়, কিছু যাতে নিয়ে ঢোকা না যায়, তার জন্যই সতর্কতামূলক ভাবে এই ব্যবস্থা।

শুধু নবান্নের বাইরে নয়, আজ নবান্নের ভিতরেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা রয়েছেন। এতদিন এই ছবি দেখা যেত না সেখানে। নবান্নে ঢোকা-বেরনোর পথে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন। পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সব নিচ্ছেন তাঁরা। এক কর্মী বলেন, "ব্যাগ চেক করা হল, বডি সার্চ করা হল। দেখা হল ফাইলপত্র।" অন্য দিন এসব হতো না বলে জানালেন ওই কর্মী। যাঁরা নবান্নে ঢুকছেন, সেখান থেকে বেরোচ্ছেন, তাঁরা সত্যি সত্যিই নবান্নের কর্মী কি না, দেখা হচ্ছে পরিচয়পত্রও।

মুখ্যসচিব দুশ্যন্ত নারিয়ালার তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'সরকারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতর, সচিবালয় থেকে যাতে কোনও কাগজ সরানো না হয়, কোনও নথি নষ্ট না হয়, তা দেখতে হবে। কোনও নথির প্রতিলিপি সংগ্রহ বা তা স্ক্যান করা যাবে না'। কিছু এদিক ওদিক হলে বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: চোরাস্রোত বইছিল বহু দিন ধরেই, মমতা-অভিষেক কি টের পাননি? তৃণমূলের ভোট কমল যে যে কারণে…

এবারে দু'দফায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফায় গত ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। 

দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় গত ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ হয় নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে। দুই দফাতেই এবার রেকর্ড হারে ভোটদান হয়। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের তুলনায় ২০২৬-এ ভোটার সংখ্যা ৫১ লক্ষ কমলেও, গতবারের তুলনায় এবার প্রায় ৩১ লক্ষ ভোট বেশি পড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আর এবার ২০২৬-এ গড়ে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রায় ১১ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। এই বিপুল ভোটদান নজিরবিহীন এবং সর্বকালীন রেকর্ড। শতাংশের পাশাপাশি রেকর্ড তৈরি হয়েছে সংখ্যার হিসাবেও। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্য়ে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ। SIR-এর জেরে এবার ভোটার সংখ্যা কমে হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লক্ষ। অর্থাৎ, ২০২১-এর তুলনায় এবার ৫১ লক্ষ ভোটার কমেছে। 

তবে মোট ভোটার কমলেও প্রদত্ত ভোট চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ২০২১-এ ভোট দিয়েছিলেন ৬ কোটি ৩ লক্ষ ভোটার। আর, এবার মোট ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ভোটার। ২ দফা মিলিয়ে ২০২১-এর তুলনায় ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ। প্রথম দফায় যে ১৬টি জেলায় ভোট হয়েছে, ২০২১-এর তুলনায় সেই জেলাগুলিতে, প্রায় সাড়ে ২১ লক্ষ বেশি ভোট পড়েছে। আর, দ্বিতীয় দফার ৭ জেলায় বেশি ভোট পড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ।