কলকাতা :টিকিট না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূলের একের পর বিধায়ক। ঠিকই এমন এক মুহূর্তে বিস্ফোরক খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, 'বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়া তৃণমূল বিধায়করা যোগাযোগ রাখছেন। বিজেপির থেকে টিকিট পেতে যোগাযোগ রাখছেন।'
আরও পড়ুন, "উনি বাঁকুড়ায় ন্যাড়া হয়েছিলেন, এখানে এসেছেন কেন?..", তুলোধনা সজলের, পাল্টা সায়ন্তিকা
দিলীপের কথায়, '(তৃণমূল) যে এমএলএ-রা টিকিট পায়নি, সব বিজেপির অফিসে লাইন দিয়ে আছে। সবার ফোন আসছে। এ নতুন কী আছে ? আমি কাউকে স্থায়ী শত্রু-মিত্র মনে করি না। শত্রু তো মনে করিই না। আমার কারও সঙ্গে ঝামেলা নেই।' পাল্টা শশী পাঁজা বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি, আধখানা লিস্ট এই জন্য বের করেছে, যে তৃণমূল কংগ্রেস পুরো লিস্ট বের করবে, তারপর কে ক্ষোভে ফেঁটে পড়বে। তারপর তার দুঃখের সাথী হয়ে বিজেপি পৌঁছে যাবে, বলবে এসে আমার দলে প্রার্থী....মানে আমরা আগাগোড়াই বলেছিলাম, আপনাদের প্রার্থীরও অভাব আছে। বুথ লেভেল এজেন্টেরও অভাব আছে। দিলীপ ঘোষ এখন বলছেন যে....তাঁরা তারমানে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু পরিষ্কারভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যখন প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, প্রার্থীর জন্য পুরো সংগঠন ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এবং এটাও বলেছে, যারা হয়তো প্রার্থীপদ পাননি, তাঁদেরকেও সাংগাঠনিক কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে, একটা ভূমিকা থাকবে।'
তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শাসকদলের একাধিক বিধায়ক। হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে এবার আর প্রার্থী করেনি তৃণমূল।এবার প্রার্থী করা হয়েছে মহম্মদ মাতেবুর রহমানকে। হরিশ্চন্দ্রপুর বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়ক তাজমুল হোসেন বলেন, দল আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। কী কারণে করেছে, জনগণই বলবে। গত ২০২১ সালে যাকে আমি ৭৭ হাজারের অধিক ভোটে হারিয়েছিলাম, সেই লোকটা হঠাৎ করে বিজেপি থেকে এসে, হঠাৎ করে টিকিট পেয়ে যায়, এটা মানুষই রায় দেবে। টিকিট পাননি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের টানা ৪ বারের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বদলে এবার প্রার্থী করা হয়েছে, অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে। রাজগঞ্জ তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, 'আজকে আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম। আমি শুধু নয়, সবাই বল, সবাই পদত্য়াগ করবে।'দীর্ঘদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ছিলেন।এছাড়াও কখনও NBSTC-র চেয়ারম্যান। তো কখনও কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন।তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষকেও এবার আর প্রার্থী করেনি দল।
