কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সমীরণ পাল ও রাজীব চৌধুরী, কলকাতা:তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শাসকদলের একাধিক বিধায়ক। পুরুলিয়ার পাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করলেন জেলা তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী।
আরও পড়ুন, একদা 'TMC কর্মী খুনে' গ্রেফতার হন ! চার্জশিটেও আছে নাম, তাহলে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পবিত্রই কেন তৃণমূলের তুরুপের তাস ? পুরুলিয়ার পাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করলেন জেলা তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী। এই বিধানসভা থেকে এবার মানিক বাউরিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। যার নেপথ্যে চক্রান্ত দেখছেন স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী। পুরুলিয়া মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী মিনু বাউরি বলেন, এই ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছুটা অন্য গন্ধ আমি পাচ্ছি। এমন একজন প্রার্থী তিনি যাকে কর্মীরা চেনে না। এই যে চক্রান্ত, জানি না কী হবে পাড়া বিধানসভা, কিন্তু এর বিচার আমি মনে করি জনগণ নিশ্চয়ই দেবে। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ফেসবুকে আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী কটাক্ষের সুরে লিখেছেন, আলিপুরদুয়ার জেলায় অনেক উন্নয়নের কাজ হয়েছে। যিনি সব টেন্ডার নিয়েছেন, সেটা প্রায় ২০০ কোটি টাকার। তার নেতৃত্বেই বিধানসভার নির্বাচন করুন। দারুণ লাগল আপনাদের পলিসি। এরকম পলিসি তো কোনও ইনসিওরেন্স কোম্পানির নেই।
হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে এবার আর প্রার্থী করেনি তৃণমূল।এবার প্রার্থী করা হয়েছে মহম্মদ মাতেবুর রহমানকে। হরিশ্চন্দ্রপুর বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়ক তাজমুল হোসেন বলেন, দল আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। কী কারণে করেছে, জনগণই বলবে। গত ২০২১ সালে যাকে আমি ৭৭ হাজারের অধিক ভোটে হারিয়েছিলাম, সেই লোকটা হঠাৎ করে বিজেপি থেকে এসে, হঠাৎ করে টিকিট পেয়ে যায়, এটা মানুষই রায় দেবে।
টিকিট পাননি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের টানা ৪ বারের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বদলে এবার প্রার্থী করা হয়েছে, অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে। রাজগঞ্জ তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, 'আজকে আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম। আমি শুধু নয়, সবাই বল, সবাই পদত্য়াগ করবে।'দীর্ঘদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ছিলেন।এছাড়াও কখনও NBSTC-র চেয়ারম্যান। তো কখনও কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন।তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষকেও এবার আর প্রার্থী করেনি দল।
নাটাবাড়ি প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আশা করেছিলাম, নিশ্চয় একটা শেষ টিকিট পাব এবং সম্মানের সঙ্গে অবসর নেব, কিন্তু সেটা আমার কপালে জুটল না। প্রার্থী না করায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চুচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারও। চুঁচুড়া তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, দল কাজ করতে বললে করতে হবে নাকি, চাকর নাকি?'জলঙ্গিতেও বিদায়ী বিধায়ক আবদুর রাজ্জাক মণ্ডলকে আর প্রার্থী করেনি তৃণমূল। জলঙ্গি তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আবদুর রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, কালকে দুটোর সময় যোগদান করেছে, আর সাড়ে তিনটে চারটের মধ্যে, দেড় থেকে দু ঘণ্টার মধ্যে সে প্রার্থী হয়ে গেল জলঙ্গির। এতে জলঙ্গিবাসী খুব অপমানিত হয়েছে। রেজাল্ট যেটা হওয়ার সেটাই হবে।' টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কও। পূর্বস্থলী উত্তর তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ৯৮ সালে যাঁরা এসেছে তাঁরা দলে মর্যাদা পাবে না। তাঁদের দাম বেশি একবার বিজেপি, একবার সিপিএম, একবার তৃণমূল, তাঁদের দাম বেশি। বেঁচে গিয়েছি। আমি এখন মেয়েকে নিয়ে, নাতনিকে নিয়ে থাকব। আমডাঙার তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমানের গলায় শোনা গেছে হতাশার সুর! আমডাঙা তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান বলেন, আমি কি দুর্নীতি করেছি? কী অপকর্ম করেছি? এই সিট জিতবে না (তৃণমূল)। বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকেও এবার আর প্রার্থী করেনি দল। প্রার্থী করা হয়নি বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক আবদুর রহিম কাজিকে।
