লখনৌ: একেবারে ছক কষে মাঠে নামছে বিজেপি। কোথাও একটুও ভুলচুক করা যাবে না। আসন নিশ্চিত না করতে পারলে এবার কোনও সুযোগই নেই। বিজেপি প্রকাশিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাতেই মিলল তার প্রমাণ। বিজেপির নির্বাচনী কমিটি আগেই জানিয়েছিল, এবার তাদেরই টিকিট দেওয়া হবে যাদের একশো শতাংশ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই গাইড লাইনেই প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন একাধিক নেতা মন্ত্রী।
গুজরাতের গাঁধীনগর থেকে নাম বাদ পড়ল লৌহমানবের। যার হাত ধরে ক্ষমতায় এল দল, তাঁকেই এবার কার্যত ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করা হল। মার্গদর্শককে রাখা হল প্রার্থী তালিকার বাইরে। অনেকেই বলছেন, বয়সের কারণেই নাকি টিকিট দেওয়া হয়নি বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীকে। সেখানে এবার দাঁড়াচ্ছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। এ না হয় গেল গুজরাতের প্রার্থী বদলের ছবি। উত্তরপ্রদেশের দিকে তাকালে ছবিটা আরও সাংঘাতিক। জয়ী সাংসদদেরই উপর ভরসা রাখতে পারছে না বিজেপি! যোগী রাজ্যে টিকিট দেওয়া হল না ৬ জয়ী সাংসদকে। তার মধ্যে একজন আবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আরেক জন আদিবাসী জাতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার ১৮২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেখানে প্রথমেই ছেঁটে ফেলা হয়েছে মার্গদর্শক লালকৃষ্ণ আডবাণীর নাম। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন মন্ত্রী কৃষ্ণ রাজ, আদিবাসী জাতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান রাম শঙ্কর কাঠেরিয়া, অংশুল বর্মা, বাবুলাল চৌধুরী, অঞ্জু বালা সহ সত্য পাল সিংহের মতো হেভিওয়েট সাংসদরা। পরিবর্তে আনা হল এসপি সিংহ বাঘেল, পরমেশ্বর লাল সাইনি, রাজ কুমার চাহের, জয় প্রকাশ রাওয়াত, অশোক রাওয়াত সহ অরুণ সাগরের মত নতুন মুখকে। ‘ওয়েটিং লিস্টে’ রয়েছেন মুরলী মনোহর জোশী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গাঁধী ও তাঁর ছেলে বরুণ গাঁধীও।
প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশের বারাণসী কেন্দ্র থেকে এবারও লড়ছেন নরেন্দ্র মোদি। লখনৌ থেকে লড়বেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। স্মৃতি ইরানি লড়বেন কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত তথা রাহুল গাঁধীর লোকসভা আমেঠি থেকে। যদিও আগের বারও এই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সেবার কংগ্রেস সভাপতির কাছে পরাস্ত হতে হয়েছিল তাঁকে। তারপর গুজরাত থেকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয় স্মৃতি ইরানিকে। উল্লেখ্য উন্নাও থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সাক্ষী মহারাজকেও। মথুরা লোকসভা কেন্দ্র থেকে এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফিল্মস্টার হেমা মালিনী। টিকিট পেয়েছেন সঞ্জীব কুমার বলিয়ান, কুনওয়ার ভরতেন্দ্র সিংহ, রাজেন্দ্র আগরওয়ালরাও।