নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে ভোট কিনতে টাকা ছড়ানোর কেলেঙ্কারি সামনে আসার কংগ্রেসের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার বিস্ফোরক অভিযোগ, বুধবার সকালে অরুণাচলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী জনসভার কয়েক ঘন্টা আগে পাসিঘাটে মঙ্গলবার মাঝরাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর কনভয় থেকে নগদ ১.৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। উত্তরপূর্বের ভোটারদের খুশি করে ভোট পেতে অর্থবল ব্যবহার করছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী খান্ডু, তাঁর ডেপুটি চাওয়া মেনকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি করেন তিনি, অরুণাচল প্রদেশ বিজেপির সভাপতি টাপির গাওয়ের প্রার্থীপদ বাতিলের দাবিও তোলেন। অরুণাচল পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন টাপির। এঁদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধেও মামলা করার দাবি করেন সুরজেওয়ালা। অভিযোগের সমর্থনে দুটি ভিডিও দেখান তিনি। দাবি, ভিডিওতে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অফিসারের সামনেই টাকা উদ্ধার হওয়ার ছবি আছে। যদিও ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেননি সুরজেওয়ালা। সেগুলি সোস্যাল মিডিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। যুব কংগ্রেস কর্মীরা পাসিঘাটে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর পরই টাকা উদ্ধারে অভিযান হয় বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি বা নির্বাচন কমিশন অবশ্য মধ্যরাতে বিপুল অর্থ উদ্ধার হওয়ার দাবি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সুরজেওয়ালা দাবি করেন, হার নিশ্চিত বুঝে উত্তরপূর্বে অর্থবল ব্যবহারের রাস্তায় হাঁটছে মরিয়া বিজেপি। মাঝরাতে বিজেপির অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, উপমুখ্যমন্ত্রী চাওয়া মিন, দলের রাজ্য সভাপতি টাপির গাওয়ের কনভয়ে তল্লাসি থেকে নগদ ১.৮ কোটি টাকা মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির পাসিঘাটের সভার প্রেক্ষিতে এটাই চরম দুর্নীতি, নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের নমুনা। নির্বাচন কমিশন কেন ঘুমিয়ে আছে, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এখনও কেন মামলা দায়ের করেনি, বিষয়টা কেন ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন করেন তিনি। সুরজেওয়ালার দাবি, সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কমিশনের ব্যয় সংক্রান্ত অফিসারের সামনে নগদ টাকা গুনছেন পুলিশকর্তারা। পাসিঘাটের ডেপুটি কমিশনারকে ভিডিওতে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে, টাকার বান্ডিলও দেখা যাচ্ছে। সুরজেওয়ালার প্রশ্ন, ওই নগদ ১.৮ কোটি নগদ টাকা কি পাসিঘাটে প্রধানমন্ত্রী মোদির সভার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব কনভয়ে নিয়ে গিয়ে বিজেপি সভাপতির বিশ্বস্ত হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল? এই বিপুল অর্থ এসেছিলই বা কোথা থেকে?