মুর্শিদাবাদ: ফের প্রার্থী নিয়ে প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষ। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ জানালেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক। 

এর আগে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে ইউসুফ পাঠানকে তৃণমূল প্রার্থী করা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। যদিও পরে তা থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছিলেন তিনি। এবার মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আবু তাহেরকে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেন হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত সেখ। হরিহরপাড়ায় দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল বিধায়ককে।

নিয়ামত সেখ বলেন, '২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। তারপর পঞ্চায়েত ভোটে সাংসদের টিকি দেখা যায়নি। আমার দলের অন্য নির্বাচনে সাংসদ অংশ নেবেন না, আর এখন বলবেন আমাদের দেরি কেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। দেরি কেন তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। ওর নির্বাচনের জন্য দেরি, ওগুলো কি তৃণমূলের নির্বাচন ছিল না? তৃণমূলকে নিয়ে কি দায়িত্ব নেই? এরই প্রতিবাদে আমরা বসেছিলাম।' 

তিনি কি নির্বাচনে কাজ করবেন না? তখন বিধায়ক নিয়ামত শেখ বলেন, 'অভিষেক ব্যানার্জি বলছেন, মমতা ব্যানার্জী বলেছেন নির্বাচনে দলের ভোট করতে, তাই আমি করছি। আজ থেকে ভোটে নেমে গেলাম। টিকিট পাওয়ার আগে কি বলেছিল, টিকিট পেয়ে ওঁর হুকুম মেনে নিতে হবে, আমি শীর্ষ নেতার হুকুম ছাড়া চলব না।'

দলবদলের প্রসঙ্গও ছুঁয়ে গিয়েছেন তিনি। নিয়ামত শেখের অভিযোগ, '২০১৯ সালে দলে এল, আমাদের যন্ত্রণা,আমাদের বিপদ কতটুকু ও কি করে জানবে? সে তো ২০১৬ সালেও গালিগালাজ করেছে। ২০১৯ সালে এসে এমপি হয়েছে জেলা সভাপতি হয়েছে। আমরা এতদিন ধরে সংগঠন করে আসছি, আমরা পঞ্চায়েতে পলাশ , জিল্লার রহমান আছে, সবাইকে ৪২টা বোম মেরেছে, আমরা ওখানে মরে যাচ্ছিলাম, একবার এসে কি খোঁজ নিয়েছে?' দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। বললেন, 'আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বলেছি একবারও খোঁজ নেয়নি, আমরা মরে যাব আবার লোক দাঁড়াবে। দল তো থাকবে, আমাদের মতো লোক মরে গেলে খোঁজ থাকবে না তাদের। আমি এসব ক্ষোভের কথা বলেছি।'                   

আরও পড়ুন:খাস জমি রয়েছে, শিক্ষক ও বিধায়ক হিসেবে পান বেতন, ঋণ, সম্পত্তির খতিয়ান দিলেন BJP-র মনোজ