শান্তনু নস্কর ও হিন্দোল দে, বাসন্তী: বাসন্তীতে তৃণমূল কর্মী খুনে ফের প্রকাশ্যে শাসকদলের কোন্দল। ভোট দিতে এসে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় তৃণমূল প্রার্থী রফিয়া ওস্তাগরের দেওর আনিসুর ওস্তাগরের। সেই ঘটনায় এবার ১১৩ নম্বর বুথের তৃণমূল প্রার্থীর স্বামীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। যে দোষী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কোন্দলের অভিযোগ উড়িয়ে দাবি তৃণমূলের। 

ভোটের দিন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে তৃণমূলপ্রার্থীর দেওর খুনে এবার আরেক তৃণমূলপ্রার্থীর স্বামীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বাসন্তীতে ফের প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূল বনাম যুব তৃণমূলের কোন্দল।                      

শনিবার, দুপুরে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৩ নম্বর বুথে তৃণমূলপ্রার্থী রোকেয়া ওস্তাগারের দেওর আনিসুর ওস্তাগার। অভিযোগ, সেসময় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ও ভিতরে ব্য়াপক বোমাবাজি করা হয়।  বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্য়ু হয় আনিসুরের। ঘটনায় যুব তৃণমূল নেতা আমানুল্লা লস্করের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল প্রার্থীর অনুগামীদের বিরুদ্ধে বোমাবাজি অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন আমানুল্লা।                 

যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি আমানুল্লা লস্করের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ৬ জনের বিরুদ্ধে বাসন্তী থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবার। এরপরই ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১৩ নম্বর বুথের তৃণমূল প্রার্থীর স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযুক্ত ও তৃণমূল প্রার্থীর স্বামী রমেশ সর্দার বলেন, 'ভোট দিতে গেছলাম। আমি তৃণমূল প্রার্থীর স্বামী, কে বা কারা বোমা মেরেছে জানি না।'                    

এটা কি যুব তৃণমূল এবং তৃণমূল দ্বন্দ্বে খুন? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বাসন্তীর তৃণমূল নেতা রাজা গাজি বলেন, 'গ্রেফতার যে হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীর স্বামী। তবে, এটা গণতান্ত্রিক দল। খুন করলে পার পাবে না।' পঞ্চায়েত ভোটের মাত্র ৬ দিন আগে এখানেই যুব তৃণমূল কর্মী জিয়ারুল মোল্লার মৃত্যু হয়।   

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ভোটের টিকিট নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে যুব তৃণমূলের বিবাদের জেরেই খুন হয়েছেন জিয়ারুল। এবার, তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় সেই দ্বন্দ্বই প্রকট হচ্ছে। 

আরও পড়ুন:নির্দল প্রার্থীর বাড়ির সামনে বন্দুক হাতে দাপাদাপি, ব্যাপক বোমাবাজি সালারে