কোচবিহার: ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর মুখে উঠে এল মহিলা সংরক্ষণ আইনের প্রসঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের সব মহিলারা যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে থেকে এর সুবিধা পান, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে কোচবিহারের সভা থেকে মহিলাদের উদ্দেশে পরিবর্তনের ডাকও দেন তিনি। অন্যদিকে এই ইস্য়ুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।

Continues below advertisement

শাসকদল হোক বা বিরোধী। কেন্দ্রে হোক কিম্বা রাজ্যে, মহিলা ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর থাকে সবার। আর সামনেই যখন পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট, তখন এরাজ্যে ভোটের প্রচার শুরুর দিনেই, মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী বিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন প্রচারে সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ''আমাদের সরকার লোকসভা আর বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইন তৈরি করেছিল, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সব মহিলারা যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে থেকে এর সুবিধা পান, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, কেন্দ্রীয় সরকার ১৬, ১৭, ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে, মা-বোনদের এই অধিকার ৪০ বছর ধরে আটকে রয়েছে, আর বেশি দেরি করা ঠিক হবে না।''২০২৩ সালে লোকসভা ভোটের আগে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হয়। লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের বন্দোবস্ত থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। কারণ আইনে বলা ছিল, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই আসন সংরক্ষিত হবে। এদিন কোচবিহারের সভা থেকে মহিলা সুরক্ষায় সরকার পরিবর্তনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী।

নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ''পশ্চিমবঙ্গ শক্তিপুজোর ভূমি, আমি পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনদের বলতে চাই, আপনাদের সম্মান ও সমৃদ্ধির জন্য ময়দানে রয়েছে বিজেপি। বিজেপি সরকার এলে প্রকৃত নারী ক্ষমতায়ণের রাস্তা খুলবে। আমাদের পুরনো ট্র্যাক রেকর্ড আছে, সেই কারণে দেশজুড়ে মা-বোনদের প্রথম পছন্দ বিজেপি। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সবরকম সুযোগ-সুবিধা মা-বোনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।''

Continues below advertisement

অন্যদিকে আবার বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ''উত্তরপ্রদেশে মেয়েরা সন্ধের পরে বেরোতে পারে না, কলেজে যেতে পারে না, ধর্ষণ হওয়ার পরেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, আদালত থেকে বেরোনোর সময়ে, অনেক ঘটনা দেখেছি।''

দু'সপ্তাহ পরই ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। বর্তমানে রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই মহিলা! সংখ্যাটা ৩ কোটি ৭৩ লক্ষের বেশি।এখন দেখার মহিলাদের ভোটের বড় অংশ কোনদিকে যায়।