রায়গঞ্জ: পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদিকে এক আসনে বসিয়ে আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলই বিজেপি-কে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন তিনি। পাশাপাশি, মমতার আমলে বাংলায় শিল্পের দুরাবস্থা নিয়েও মুখ খুললেন। 

Continues below advertisement

রায়গঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্তর হয়ে প্রচার করেন রাহুল। আর সেখানে দাঁড়িয়েই মমতা এবং মোদিকে আক্রমণ করেন রাহুল। বলেন, “এমনি এমনি নির্বাচন জেতে না বিজেপি। বিরোধীদের ভোট কেটে জেতে। আর ওদের সুবিধা করে দিচ্ছে কে? বাংলায় বিজেপি-কে সুবিধা করে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি বাংলাকে টাকা দেয় না, ২ লক্ষ কোটি দেয়নি বাংলাকে। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেটে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য কোনও প্রকল্প নেই। SIR-এর মাধ্যমে এখন গণতন্ত্রের উপর আঘাত হানছে। কিন্তু তৃণমূলও নিজের স্বার্থ দেখছে। ওরাও বাংলার জন্য কাজ করছে না।"

দুর্নীতি ইস্যুতেও এদিন তৃণমূলকে আক্রমণ করেন রাহুল। বলেন, "আপনারা বলেন, ছোট-মাঝারি কারখানা মমতাজীই ধ্বংস করেছেন! বাংলায় ডাবল ক্ষতি আপনাদের। দেবাংলার শিল্পকে ধ্বংস করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের শিল্পকে ধ্বংস করেছেন নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তৃণমূলও দুর্নীতির দৌড়ে পিছিয়ে নেই। সারদা চিটফান্ডে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীর টাকা, ১৯০০ কোটি টাকা ফের দেওয়া হয়নি। রোজভ্যালি দুর্নীতিতে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ৬৬০০ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি। কয়লা দুর্নীতি…বাংলার মানুষের কোনও ফায়দা নেই। শুধু তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ২৪ ঘণ্টা টাকা দিতে হয়।”

Continues below advertisement

তৃণমূল হিংসা ছড়ায়, মারামারি করে এবং মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় বলেও অভিযোগ তোলেন রাহুল। বলেন, "আমার মনে আছে, ২০২১ সালে তৃণমূল বাংলাকে কথা দিয়েছিল যে, ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। ওদের প্রতিশ্রুতি ছিল। কত জন চাকরি পেয়েছেন? কত কারখানা, উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে? এখন ৮৪ লক্ষ যুবক-যুবতী বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। মমতাজী বলেন, '৫ লক্ষ যুবক-যুবতীকে চাকরি দেব'। আর ৮৪ লক্ষ বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বাংলার সঙ্গে এটা কি ছেলেখেলা হচ্ছে? বাংলা আগে শিল্পকেন্দ্র ছিল, এখানে শিল্প-কারখানা ছিল। প্রথমে কমিউনিস্ট এবং তার পর মমতাজী বাংলার শিল্প শেষ করে দিয়েছেন। আর হিংসা, মহিলাদের কথা যদি বলি, তাতে আর জি কর ধর্ষণ এবং খুনের কথাও বলতে হবে। বাংলায় কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তৃণমূলের লোক, গুন্ডারা যা ইচ্ছে করতে পারে। কংগ্রেসের নেতাদের মারধর করা হয়, হিংসা ছড়ানো হয়। আমাদের তপন কুন্ডুকে খুন করেছে। বিজেপি এবং তৃণমূল, দুই দলই হিংসা ছড়ায়। কংগ্রেস হিংসা, ঘৃণা, ধর্মীয় বিভাজনের পক্ষে নয়। আমরা কারও বিরুদ্ধে কাউকে ভিড়িয়ে দিই না। আমরা নির্বাচনে বাংলাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাবে প্রত্যেক পরিবার। বিনামূল্যে ক্যান্সার, ডায়লিসিস হবে। কৃষক সম্মানের আওতায় বছরে ১৫০০০ টাকা, ২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ। শিক্ষার আলোয় গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনা, মহিলাদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত। সরকারি চাকরিতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা হবে। মাসে ২০০০ টাকা জমা পড়বে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে।"

এদিন প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির কথাও শোনা যায় রাহুলের। জানান, বাংলায় কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় নেতা ছিলেন প্রিয়রঞ্জন। তিনি থাকলে বাংলায় কংগ্রেসের সরকার থাকত, প্রিয়রঞ্জন মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন বলে জানান। রাহুল বলেন, "বাংলায় নির্বাচন হচ্ছে। একদিকে, বিজপি-র ঘৃণা, হিংসার রাজনীতি। ওদের প্রধানমন্ত্রী কম্প্রোমাইজ়। ওদের কথাই বলতে চাই না। আর একদিকে, তৃণমূল, যারা বিজেপি-র জন্য রাস্তা তৈরি করছে। তৃণমূল নিজের কাজ করলে, চাকরি দিলে, ঘৃণা না ছড়ালে, আজ এখানে বিজেপি-কে দেখাই যেত না। আণাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুন। কংগ্রেসকে ভোট দিন। যত সম্ভব আসনে জেতান। বাংলাকে বদলে দেওয়ার কাজে শামিল হোন।"