কলকাতা: কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেই শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়কর মর্মান্তিক পরিণতি। 'পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক' রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি করে খুন করা হল চন্দ্রনাথ রথকে (Chandranath Rath)। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া মোড়েই এই ঘটনা ঘটে বলে জানান ব্যারাকপুরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী। গুলিবিদ্ধ তাঁর গাড়ির চালকও। মধ্যমগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

Continues below advertisement

এই চন্দ্ররাথ কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে ছিলেন, ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। অতীতে ভারতের সামরিক বাহিনীর অংশ ছিলেন এই চন্দ্রনাথ। তিনি অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্মী। সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরে ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কর দায়িত্ব নেন তিনি। সেই সময়ই বিজেপি বিরোধী দল হিসাবে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে এবং শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ।

তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর অধিকাংশ কাজকর্ম এই চন্দ্রনাথ রথই সামলাতেন। শুভেন্দুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী হিসাবে পরিচিত তিনি। তাঁর বাইরের সমস্ত অনুষ্ঠান, বিধানসভার না না কাজকর্ম, সব রাজনৈতিক না না কাজকর্ম সামলাতেন চন্দ্রনাথ রথই। তিনি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত অনুচর। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের সময় ও পরেও শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী ছিলেন এই চন্দ্রনাথ রথ।

Continues below advertisement

শোনা যাচ্ছে আজ সন্ধে সাড়ে ছয়টায় তিনি বিধানসভা যান, সেখানে নিজের কাজকর্ম করেন, কয়েকজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে কথাবার্তা বলেন। তারপরেই তিনি তাঁর বাড়ি মধ্যমগ্রামের দিকে রওনা হন। তখনই তাঁকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। 

আরও পড়ুন:- খুন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক! ভয়ঙ্কর অভিযোগ কৌস্তভ বাগচীর

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে বাইকে করে এসে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। কেউ বলছেন যে দুইজন দুষ্কৃতী ছিলেন আবার কেউ অন্য় কথা বলছেন। মোট ছয় রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। চন্দ্রনাথ রথ যখন গাড়ি করে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেছিলেন। তাঁদের গাড়ি আটকে গুলি করা হয়ে। পাশে একটা ছোট চারচাকার গাড়ি চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির সামনে দাঁড়ায়। মূল রাস্তার একটু ভেতরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। 

চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরই পেছন থেকে বাইকে করে দুষ্কৃতী আসে ও এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। দুইটি গুলি চন্দ্রনাথের বুকে লাগে, তাঁর হৃদয় ফুঁটো করে দেয় বলেই জানান হাসপাতালের ডাক্তার। একটি গুলি তাঁর পেটে লাগে। এরপরই যখন তারা বুঝে যে চন্দ্রনাথ রথ গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে। তখন দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ছোট গাড়িটি ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে। তা আটক করেছে পুলিশ।