দীপক ঘোষ, কলকাতা: কথায় বলে - মাছে ভাতে বাঙালি। বাঙালির প্রিয় সেই মাছকে নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনীতির দড়ি টানাটানি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির হয়তো মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল তৃণমূল। সেই মতো প্রচারও করেছিল তৃণমূল। কিন্তু জেতার পর এবার সল্টলেকে মাছ খাইয়েই হবে সেলিব্রেশন। এদিন মাছ-ভাত খেয়ে বিজেপি নেতারা এটাই প্রমাণ করতে চাইছে যে বাঙালির সৃষ্টি-কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর এমন কোনও প্রভাব পড়বে না।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব আজ ঠিক করেছেন বিজেপির রাজ্য দফতরে বিজয় উৎসব হবে মাছ-ভাতেই। এক কর্মী বলেন, 'আমরা আজ ভীষণ খুশি। আজ আনন্দ সহকারে মাছ-ভাত খাব। আজ দই কাতলা, মাছের মাথা, চাটনি, মিক্স সবজি, ভাত, মুসুর ডাল হয়েছে।'
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'সব রাজ্যে মাছ বন্ধ করে দিয়েছে। দেখছেন কে কী খায়? কে কী পরে? বিজেপি রাজ্য পাশে ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি দেখে আসুন। মাছ খাওয়া বন্ধ। মাংস খাওয়া বন্ধ'।
যদিও এ রাজ্যে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে মাছের এতো চাহিদা, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য উৎপাদনে আত্মনির্ভর নয়। নিজের ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল কংগ্রেস আপনাদের মাছও দিতে পারেনি। সেটাও বাইরে থেকে আনতে হয়।'
আরও পড়ুন, ভবানীপুরে শুভেন্দুকে বিরাট ভোটে হারাতে পারেন মমতা? কী বলছে ভোট পরিসংখ্যান?
শুধুমাত্র মঞ্চের ভাষণই নয়, রাস্তাতেও নেমে এসেছিল মাছ নিয়ে তৃণমূল বিজেপির টানাপোড়েন। তৃণমূলের অভিযোগের পরে মাছ নিয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে ময়দানে নামে বিজেপিও। পিছিয়ে ছিল না তৃণমূলও! বাঁশদ্রোণীতে একটি সংগঠনের শোভাযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর সাফ জানিয়েছিলেন, 'আমরা মাংস, মাছ এবং ভাত সব খাচ্ছি। ১৬টি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে, ২০টি রাজ্যে NDA-র সরকার রয়েছে; কোথাও কারও বাকস্বাধীনতা, খাদ্যাভ্যাস কিংবা পূজার ওপর কোনও বিধিনিষেধ নেই।'
