কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে এবার গেরুয়া ঝড়। বিপুল পরিমাণে ভোট পেয়ে জিতেছে বিজেপি। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর বিপক্ষে লড়ে। তবে পরাজিত হয়েও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ তিনি। মমতা বলছেন, 'আমরা জিতেছি, হারিনি, কেন পদত্যাগ করতে যাব?' এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপির প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

Continues below advertisement

তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তরুণজ্যোতি বলেছেন, 'মানুষ তাড়িয়ে দিয়েছে তাঁকে। বারবার হেরেছেন। পুরো রাজ্য প্রত্যাখ্যান করেছে তৃণমূলকে। তারপরেও পদত্যাগ করবেন না? ওনার তো কালকেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। ন্যূনতম যদি লজ্জা থাকত তাহলে এতক্ষণে পদত্যাগ করে দিতেন। কিন্তু কী বলবেন? নির্লজ্জ... নির্লজ্জতার উদাহরণ রাখছেন তিনি। এক নম্বর নির্লজ্জ ব্যক্তির নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।' 

রক্ষা হল না গড়, বহরমপুরে পরাজিত কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী 

Continues below advertisement

এ যেন ভোট সুনামি! এ যেন হড়পা বান! বিজেপির পক্ষে পশ্চিমবঙ্গবাসীর বিপুল জনমত! ইস বার দোশো পার! বিজেপির জয়ে চাপা পড়ে গেল তৃণমূল। ওঠার ক্ষমতাটুকু নেই! ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নিজের বিধানসভার গণনাকেন্দ্রে গিয়ে এই স্লোগান শুনতে হল মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। ২০১১ সালে এভাবেই মানুষের উচ্ছ্বাস-আবেগে ভেসে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আর ২০২৬ সালে এভাবে চলে যেতে হল সেই তাঁকে। 

পরাজিত হয়েও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ! কী বললেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল 

কিন্তু, নিজের হার....দলের লজ্জাজনক হারের পরও কেন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়? যা সম্ভব নয়, তা জেনেও কেন পদত্য়াগ করতে চাইছেন না তিনি? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কি কোনও বিশ্বাস নেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের? তাঁর এই বিতর্কিত-চাঞ্চল্য়কর মন্তব্য়ের জেরে উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু এ কী করে সম্ভব? হারলে হার স্বীকার করে, রাজ্য়পালের পদত্য়াগ করতে হয়, এটাই তো নীতি-পদ্ধতি-নিয়ম-রেওয়াজ। হারের পর কি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের এসবের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে? 

২০১১ সালে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দলের কাছে যখন সিপিএম পরাজিত হয়েছিল, তখন রেজাল্ট বার হতে না হতেই, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্য়পালের কাছে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন! এটাই পদ্ধতি! তাহলে কার্যত গো হারা হারার পরও, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কেন ইস্তফা দিতে রাজি হচ্ছেন না? পরাজয়ের ফলে তিনি কি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন? ভোটে জয়-পরাজয় থাকবে! তাহলে সত্য়িকে সত্য়ি বলে স্বীকার করে নিতে অসুবিধা কোথায়?