কলকাতা: ৪ঠা মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল (West Bengal Election Result) প্রকাশের দিন ছিল। ভোট সম্পূর্ণ হওয়া ২৯৩টি কেন্দ্রের ফলপ্রকাশ হওয়ার কথা ছিল সোমবারই। গণনা শুরু হতেই একেবারে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে গেরুয়া ঝড় উঠে। সূর্য ঢলতে ঢলতে এটা  মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে বঙ্গ রাজনীতিতে পরের দিন নবসূর্যোদয় ঘটতে চলেছে। কিন্তু শেষমেশ কয়টি সিট জিতল বিজেপি? তৃণমূলই বা কয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করল? 

Continues below advertisement

গত ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণা করে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট মেনে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন (West Bengal Assembly Election) হয় পশ্চিমবঙ্গে। সেই দফায় ১৬ জেলার ১৫২ কেন্দ্রে হয় ভোট গ্রহণ। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন প্রায় ৩ কোটি ৬১ লক্ষ মানুষ। দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয় ২৯ এপ্রিল, বুধবার। সেই দফায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২ কেন্দ্রের ভোটার। 

এবার ভোটে প্রত্যাবর্তন নয়, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট দিল। এগারোর পর ছাব্বিশ, ১৫ বছর পরে ফের পালাবদল ঘটল বঙ্গে। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। বিজেপির কাছে তৃণমূলের পরপর হেভিওয়েট মন্ত্রীরা হারালেন। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উভয় কেন্দ্রেই জিতলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বেলা গড়াতেই একের পর এক কেন্দ্রে পিছিয়ে যায় তৃণমূল। সূর্যাস্তের পরেই খেলা ঘোরার দাবি করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। তবে তেমনটা হল না।  কাজে এল না ডায়মন্ড হারবার মডেল! প্রত্যাবর্তন নয়, পালাবদলেরই পথে পশ্চিমবঙ্গ। সুজিত, চন্দ্রিমা, শশী, দেবাশীষ কুমার, ব্রাত্য থেকে অতীন-একের পর এক হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রীরা পরাজিত হলেন। পাঁচ বছর আগে যেখানে তৃণমূল ৪৭.৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেখানে এবারে তাদের ভোট কমে দাঁড়াল ৪০.৮০ অর্থাৎ সাত শতাংশের খানিকটা কম ভোট কাটা গেল তৃণমূলের। সেখানে বিজেপি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে ৩৮.১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেখানে পাঁচ বছর পর সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ৪৫.৮৪। অর্থাৎ মোটামুটি যে সাত শতাংশ ভোট তৃণমূলের কমেছে, সেই পুরো শতাংশটাই বিজেপির দিকে গিয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। তবে ভোটের শতাংশে খুব বেশি পার্থক্য না হলেও, কেন্দ্রের নিরিখে একপেশেভাবে জয় পেল বিজেপি।

Continues below advertisement

বিজেপির সাংসদ খগেন মুর্মু, দিনকয়েক আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া চিকিৎসক নারায়ণ ব্যানার্জির মুখে শোনা গিয়েছিল ২০০টি আসন জয়ের আশ্বাস। সেইমতোই ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয় পেল বিজেপি, ৮০টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। এখনও অবধি নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজারহাট নিউটাউনের জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ১৮ রাউন্ডের মধ্যে ১৭ রাউন্ড গণনা শেষে তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায় বিজেপির পীযূষ কানোরিয়ার থেকে মাত্র ৩২৩ ভোটে এগিয়ে। এছাড়া সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান, আজুপের হয়ে দুই কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীর, ভাঙড়ে আইএসএফের নৌশাদ সিদ্দিকি এবং কংগ্রেসের মোতাব শেখ ও জুলফিকর আলি জয়লাভ করেছেন।