ব্যারাকপুর: বাংলায় প্রকৃত অর্থে ২০২৬ সালের ভোটে গেরুয়া ঝড় উঠল। আর সেই ঝড়ে উড়ে গেল ঘাসফুল, ফুটল পদ্ম। প্রত্যাবর্তন নয়, পরিবর্তনের পক্ষেই রায়দান (WB Election Results) করলেন বাংলার মানুষ। বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো বটেই, ২০০-র অধিক আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। এই বিপুল জয়ে অবদান রয়েছে এক পিতা-পুত্র জুটিরও। কথা হচ্ছে অর্জুন সিং (Arjun Singh) ও পবন সিংয়ের (Pawan Singh)।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নোয়াপাড়া থেকে দাঁড়িয়েছিলেন অর্জুন, আর ভাটপাড়া থেকে প্রার্থী হন তাঁর ছেলে পবন সিং। গণনা শেষে দুইজনেই জয়ের স্বাদ পেলেন। নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্যকে ১৭৬৫৬ ভোটে হারালেন অর্জুন সিং। ভাটপাড়ায় অর্জুন-পুত্র পিতার থেকেও অধিক ব্যবধানে জয়ী হলেন। তিনি ২২৮০৭ ভোটে পরাজিত করলেন তৃণমূলের অমিত গুপ্তকে। অপরদিকে, ব্যারাকপুর বিধানসভা থেকে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী, জগদ্দল থেকে জয়ী হয়েছেন রাজেশ কুমার। খড়দা, বিজপুর, নৈহাটিতেও জয়ী হয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সর্বত্রই এবার পদ্ম ফুটেছে।
আরও পড়ুন:- রাসবিহারীতে ধরাশায়ী দেবাশীষ কুমার, জিতলেন বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত
শুধু ব্যারাকপুর নয়, গোটা বাংলাতেই ছবিটা কিন্তু একই। চারিদিকে বিজেপির জয়জয়কার। এই প্রথমবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে। দলের এই বিরাট জয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু অধিকারী। এতদিনের বিরোধী দলনেতা নিজেও এবার ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছেন। ভবানীপুরে হারিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। এই বিরাট জয়ের পর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দু সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন এই ফলাফল 'সোনার বাংলার জন্য নতুন ভোর'।
তিনি লেখেন, 'এই ঐতিহাসিক রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রাখা অটল আস্থারই প্রমাণ। অঙ্গ-কলিঙ্গ-বঙ্গ অঞ্চল জুড়ে জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের পক্ষে নির্ণায়ক জনরায়ের মাধ্যমেই এখন বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কর্মীরা তাঁদের রক্ত ও ঘাম দিয়ে এই বিজয়কে সিক্ত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই এটিকে সম্ভব করেছে। ভয়ের পরিবর্তে অগ্রগতিকে বেছে নেওয়ায় আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে প্রণাম জানাই। আমরা একসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করব।'
