West Bengal Election 2026: রাত পোহালেই ভোট, সাধারণ মানুষদের জন্য কী কী নির্দেশ? মানতেই হবে কোন কোন নিয়ম?
Rules for Voters: যে সমস্ত এলাকাগুলিতে ভোট রয়েছে, সেই সময় এলাকায় শুধুমাত্র ভোট দিতে যাওয়া ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না মোটরবাইক

কলকাতা: আগামীকাল রাজ্যে প্রথম দফা নির্বাচন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬ জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণ হবে। ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন সাড়ে তিন কোটির বেশি ভোটার। আর এই ভোট ঘিরেই নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের বিধানসভা ভোটে এমন অনেক কিছু হচ্ছে, যা এর আগে কোনও দেখেন পশ্চিমবঙ্গবাসী! ভোটের প্রায় এক মাস আগেই রাজ্যে চলে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী! মাছিও যাতে গলতে না পারে এমন সুরক্ষা ব্যবস্থা করেছে কমিশন!
সাধারণ মানুষদের জন্য নিষেধাজ্ঞা
সাধারণত জম্মু কাশ্মীরে ফোর্সের যে সাঁজোয়া গাড়ি দেখা যায়, সেই ধরনের বুলেটপ্রুফ গাড়ি ঘুরছে বাংলার ওলি-গলিতে! পাশাপাশি রয়েছে রেকর্ড সংখ্য়ক কেন্দ্রীয় বাহিনী! নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি, প্রথম দফার ভোটে মোতায়েন থাকবে, ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সংখ্যা হিসেবে ধরলে প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান! গত এক মাস ধরে কার্যত কলকাতা ও জেলায় জেলায় নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে তাদের। কিন্তু কী কী নির্দেশ রয়েছে সাধারণ মানুষদের ওপর? সাধারণ ভোটাররা কী কী করতে পারবেন, কী কীই বা করতে পারবেন না? দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে..
'লক্ষ্মণরেখা'
বুথের চারপাশে ১০০ মিটার বৃত্তাকারে চক বা রঙ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে। এই অংশে ভোটার ছাড়া অন্য কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এবছর ভোটকেন্দ্র পিছু থাকবে অন্তত হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ চারজন জওয়ান। ভোটার নন, এমন ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে বা তার কাছাকাছি ও জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। ভোটকেন্দ্রের আশেপাশের সরু গলিগুলোতেও যেন ভোটার নয় এমন মানুষ জমায়েত করতে না পারেন, সেদিকেও কড়া নজর রয়েছে।
মোটরবাইক ব্যবহারের বিধি
মোটরবাইকের ব্যবহারের ওপরেও জারি করা হয়েছে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা। যে সমস্ত এলাকাগুলিতে ভোট রয়েছে, সেই সময় এলাকায় শুধুমাত্র ভোট দিতে যাওয়া ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না মোটরবাইক। পাশাপাশি যদি কোনও আপদকালীন পরিস্থিতি হয়, সেক্ষেত্রে একমাত্র ব্যবহার করা যাবে মোটরবাইক। এছাড়া আর কোনও কাজে মোটরবাইক ব্যবহার করা যাবে না। এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করা যাবে না, ব়্যালির প্রশ্নই নেই। তবে ছাড় রয়েছে সেই সমস্ত বাইকের যেগুলি অ্যাপ মারফত বুকিং করা খাবারের ফুড ডেলিভারি করে। এর বাইরে কোনও কাজে বাইক ব্যবহার করতে গেলে স্থানীয় থানা থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
মদের দোকান বন্ধ
অন্যবার ভোটের ২ দিন অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৯৬ ঘণ্টা করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের জেলাগুলিতে আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হয় মদের দোকান। নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ করার কথা বলা হলেও, এই রাজ্যে এত আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ করা হল কেন? নানা মহলে ওঠে প্রশ্ন। কিন্তু জেলাশাসক ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে, রাজ্যের আবগারি দফতরে কমিশনারের পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়, বিভিন্ন নজরদারি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে হঠাৎ করেই রাজ্যে মদের বিক্রিতে একটা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই অবস্থায় বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী, মদের দোকানগুলি বন্ধ রাখার সময়সীমা ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সিসিটিভির নজরদারি
প্রত্যেক বুথে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। কোনও সিসিটিভি ক্যামেরায় যদি কোনোরকম সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়ে, তাহলে পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই বুথে ফের ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাও করা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
সেরা শিরোনাম




















