ফরাক্কা : রাজ্যে SIR ট্রাইব্যুনাল প্রথম তাঁর আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের নাম বাদের মামলায় রায় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। অবিলম্বে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম তুলতে বলা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। ফরাক্কার সেই কংগ্রেস প্রার্থী এবার এবার এগিয়ে গেলেন অনেকটাই। ১৭ রাউন্ড গণনার ভিত্তিতে তাঁর প্রাপ্ত ভোট দেখাচ্ছে, ৬১ হাজার ৪০২টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সুনীল চৌধুরীর থেকে তিনি ৬ হাজার ৮৯২ ভোটে এগিয়ে। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৪ হাজার ৫১০ ।
কিন্তু, এই জেলায় কংগ্রেসের জন্য সবথেকে দুঃসংবাদ অধীর চৌধুরীর পিছিয়ে থাকা। এবার বহরমপুর কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন তিনি। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা আশা করেছিলেন, তিনি ভাল ফল করবেন। আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও খবর নেই। কারণ, ১২ রাউন্ড গণনা শেষে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ২৭ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৬ হাজার ১০৯ (এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত)। অন্যদিকে, ৮৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এই কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র।
রাজ্য পরিবর্তন হবে ? নাকি বিপুল জনাদেশ নিয়ে ফের কামব্যাক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ? তা নিয়ে যাবতীয় জল্পনা-চর্চায় এবার ইতি পড়তে চলেছে। তবে তার জন্য রাজ্যবাসীকে আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আগামী পাঁচ বছর রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বে কোন দলকে পশ্চিমবঙ্গের সিংহভাগ মানুষ দেখতে চাইছেন তা জানার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল গত ১৫ মার্চ। ওইদিনই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেইমতো এবার রাজ্য দুই দফায় নির্বাচন হয়েছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। আর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। প্রথম দফায় ভোট হয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম - এই ১৬ জেলায়। দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান - এই ৭ জেলায়। আজ ফল ঘোষণা। আজ ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হবে। কারণ, কারণ, ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে ফলতার ভোট।
ডিসক্লেমার : ফলাফলের প্রাথমিক ট্রেন্ড ধরে কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন না।
