কলকাতা: তিনি বাংলার অন্যতম আইকন। বাংলা সিনেমা জগতের কিংবদন্তি। দশকের পর দশক ধরে বাংলা ছবির অন্যতম সেরা মুখ। যে কারণে বলা হয়, তিনিই 'ইন্ডাস্ট্রি।'

সেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) বুধবার, মহানবমীর রাতে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন সুরুচি সংঘের পুজো মণ্ডপে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আলোয় নিজেকে আরও আলোকিত করতে। সেখানেই এবিপি আনন্দের প্রতিনিধি, অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যর সঙ্গে কথা বললেন প্রসেনজিৎ।

সদ্য মুক্তি পেয়েছে প্রসেনজিৎ অভিনীত সিনেমা 'দেবী চৌধুরানী'। মুক্তির পরই সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে যে ছবি। নবমীর রাতে অরূপ বিশ্বাস, স্বরূপ বিশ্বাসের পুজো হিসাবে পরিচিত সুরুচি সংঘে দাঁড়িয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, 'বাংলা ভাষায় বাঙালিদের একটা সিনেমা। মানুষ হল ভর্তি করে দেখছেন, আমি আনন্দিত বলব না। গতকাল আমার জন্মদিন গিয়েছে। আমি বলব এটা বাঙালিদের আমাকে দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার। কারণ প্রায় ৪৫ বছর কাজ করছি। তার মধ্যে ৪০ বছর আমার ছবি পুজোয় এসেছে।’

অম্বরীশ প্রশ্ন করেন, এত বছর ধরে পুজোয় সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, এখনও কি মনের সেই ধুকপুকুনিটা হয়? প্রসেনজিতের জবাব, 'মনের ধুকপুকটা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত করবে। স্কুলের পরীক্ষার রেজাল্ট বেরনোর মতো। আমার সিনেমা রিলিজের সাতদিন আগে থেকে হাঁটা বেড়ে যায়। ফোন করি রাত তিনটের সময়। আমার সঙ্গে যারা থাকে তারা জানে। তবে এটা থাকা দরকার। যেদিন এটা থাকবে না, কাজ করা বন্ধ করে দেব।'

পুজোর কয়েকদিন কি খাওয়াদাওয়ার কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে, নাকি মন খুলে চলে উদরপূর্তি? প্রসেনজিৎ বলছেন, 'সারাবছর কড়া ডায়েটে থাকি। মানে আমার যেটুকু প্রয়োজন সেটাই খাই। তবে পুজোর কটা দিন সবাইকে বলি, খাওয়াদাওয়া করুন। মায়ের ভোগ আমি ছাড়ি না। সবাই ভালবেসে ভোগ পাঠান। আমি খাই। এর স্বাদ আর কোথাও পাওয়া যায় না। মায়ের ভোগ অনবদ্য। সঙ্গে অষ্টমীর খাওয়াদাওয়া রয়েছে। তার ওপর এবার অষ্টমীর দিন আমার জন্মদিন ছিল।'

উৎসবের শেষ বেলায় মন খারাপের সুর। আজ মহানবমী। শারদোৎসবের শেষ দিন। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ঊমার আরাধনা। রাত যত বাড়ছে বাড়ছে ভিড়। উত্তর থেকে দক্ষিণ মহা ধুমধামে মহানবমী। তিথি মেনে হল নবমীর পুজো। বেলুড় মঠেও নবমীর বিশেষ পুজো হচ্ছে। রাত পোহালেই বিষাদের দশমী। ফের এক বছরের অপেক্ষা। তার আগে শেষ মুহূর্তে পুজোর আনন্দ চেটেপুটে উপভোগ করতে সকাল থেকে মণ্ডপে-মণ্ডপে ভিড়।