কলকাতা: ধারাবাহিক দিব্যি চলছিল। জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল বেশ। ধারাবাহিক নায়ক, নায়িকা দুজনেই কাজ করেছেন বড়পর্দায়। দীর্ঘদিন পরে দুজনেরই ছোটপর্দায় অভিনয়। তাঁদের দুটিও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল। হঠাৎ ছন্দপতন। দুই নায়ক নায়িকার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কে নাকি চিড় ধরেছে? ছোটপর্দায় একে অপরের সঙ্গে প্রেমের দৃশ্যে তাঁরা অভিনয় করছেন ঠিকই, তবে সেটে নাকি একে অন্যের সঙ্গে কার্যত কথাই বলছেন না! ধারাবাহিকের শুরুর দিকে তাঁদের মধ্যে যে সম্পর্কের স্বাভাবিকত্ব ছিল, তা নাকি নষ্ট হয়েছে? টলিপাড়ার এই গুঞ্জন পা রেখে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে নায়ক নায়িকাকে। আর এবার, এই বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন নায়ক।
কথা হচ্ছে, জিতু কমল (Jeetu Kamal) আর দিতিপ্রিয়া রায় (Ditipriya Roy)-কে নিয়ে। তাঁরা বর্তমানে অভিনয় করছেন, জি বাংলার ধারাবাহিক 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এ। এক অসমবয়সী প্রেমের গল্প দেখানো হচ্ছে এই ধারাবাহিকে। সেই দিক থেকে দিতিপ্রিয়া আর জিতু এই ধারাবাহিকের জন্য একেবারেই মানানসই। দিতিপ্রিয়া ব্যক্তিগত জীবনেও জিতু কমলের থেকে অনেকটা ছোট। কিন্তু জিতু কমলের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকেই নাকি যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। দিতিপ্রিয়া সদ্য ধারাবাহিকের কয়েকটি দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। সেখানে দিতিপ্রিয়াকে নিয়ে প্রশংসাসূচক কথাও বলেছিলেন অভিনেতা। তবে সেই পোস্ট নিয়ে নাকি অস্বস্তিতে পড়েছেন নায়িকা। সেই কারণেই নাকি নায়কের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন নায়িকা।
সোশ্যাল মিডিয়ায়, একটি ফেসবুক লাইভে এসে, বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন জিতু। তাঁর কথায়, 'দিতিপ্রিয়া একজন খুব প্রতিভাবান অভিনেত্রী। ওর সঙ্গে আমার কেন সমস্যা হবে? বয়সে ছোট হলেও আমি ওকে সম্মান করি। ওর সঙ্গে কাজ করে আমি কমফোর্ট জোনটাও পাই। আমিও ওকে সেই কমফোর্ট জোনটা ওকে দেওয়ার চেষ্টা করি। তোমরা (দর্শকেরা) ভুলভ্রান্তি থাকলে সেটা কাটিয়ে ফেলো। এটা দেখতে একেবারেই ভাল লাগছে না। আমি কাজ করতে ভালবাসি, কাজ দেখাতে ভালবাসি আর তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে ভালবাসি। আমি খুব ইতিবাচক একটা মানুষ, সবসময় ইতিবাচক জিনিসই তুলে ধরতে ভালবাসি। আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি যে কিছু দর্শকের মনে হয়েছিল ছবিটা অশালীন, তাই আমি সেটা মুছে ফেলেছি। আমার সহ অভিনেত্রী আমায় বলেছেন, এটা একেবারেই বলিনি। সে আমার থেকে অনেক ছোট। অপর্ণার আগেও ও একটা মানুষ, একজন শিক্ষিত মেয়ে। খুব গুণী একটা মানুষ। আমরা কেন গুণী ছেলে মেয়েদের এগিয়ে দেব না? আমরা যদি গুণী মানুষকে এগিয়ে না দিতে পারি, তাহলে মেনে নিতে হবে যে সমাজের অবক্ষয় হচ্ছে।'