কলকাতা: সেফ আলি খানের (Saif Ali Khan)-এর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ শরিফুল ইসলামকে। তবে আজ এই ঘটনায় বিস্ফোরক দাবি করলেন ধৃত শরিফুলের বাবা। তিনি বলছেন, 'সিসিটিভিতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, সে আমার ছেলে নয়। যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে আমার ছেলে'। অর্থাৎ ধৃত মহম্মদ শরিফুল ইসলামের বাবার দাবি, সেফ আলি খানের বাড়ির ক্যামেরায় ধরা পড়া ব্যক্তি আর যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই দুই ব্যক্তি আলাদা। 

আজ টেলিফোনে এবিপি আনন্দের প্রতিনিধিকে ধৃত মহম্মদ শরিফুল ইসলামের বাবা, রুহুল আমিন ফকির বলেছেন, 'সিসিটিভিতে যে ছবি ধরা পড়েছে, তা আমি ভাল করে দেখেছি। সিসি টিভিতে যে ছেলেটিকে দেখা গিয়েছে, তার সামনের চুল এতটাই বড় যে চোখ ঢেকে যায়। আমার ছেলে এত বড় চুল রাখে না। চেহারাও অন্যরকম। আপনাদের ভারতবর্ষ তো বিশাল। কারও সঙ্গে কারও চেহারার কিছু না কিছু মিল থাকে। বাংলাদেশের একটা ছোট্ট প্রদেশেই একরকম দেখতে অনেক মানুষ রয়েছেন। আমাকেই তো অনেকে অনেকবার অন্য মানুষের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন। ভারতবর্ষতেও তো এমন কোনও কোনও মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের মুখের মিল থাকতে পারে। আমার ছেলে এরকম চুল রাখে না। দুটো ছেলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দুটো ছবি আলাদা'।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় একাধিক তথ্য মিলেছে শরিফুলের থেকে। সেফ আলি খানের বাড়িতে হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছে শরিফুল। জেরায় মহম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেছে, তার বাড়িতে অসুস্থ মা রয়েছে। তার পরিকল্পনা ছিল, খুব বড়লোকের বাড়ি থেকে কিছু জিনিস চুরি করে সে বাংলাদেশে পালিয়ে যাবে। সেখানে গিয়েই সে থাকতে শুরু করবে তারপরে। জেরায় আরও জানা গিয়েছে, মহম্মদ শরিফুল ইসলাম কিছু না জেনেই সেফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। সে জানত না 'সদগুরু শরণ'-এ থাকেন সেফ আলি খান ও করিনা কপূর খান। সে এর আগেও ৩টে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে ব্যর্থ হয়। সেই সময়ে সেখানে কড়া নিরাপত্তারক্ষীরা ছিল। কিন্তু সেফ আলি খানের আবাসনে গিয়ে সে দেখে নিরাপত্তারক্ষীরা ঘুমে মগ্ন। সেই কারণেই পাঁচিল ডিঙিয়ে 'সদগুরু শরণ'-এ ঢুকে পড়ে সে। 

আরও পড়ুন: Saif Ali Khan: চূড়ান্ত দারিদ্র, বাড়িতে অসুস্থ মা.. পরিস্থিতিই কি শরিফুলকে বাধ্য করেছিল সেফের বাড়িতে হামলা চালাতে?