মুম্বই: তিনি এক সময়কার নামী অভিনেত্রী। লাস্যময়ী নায়িকার অনুরাগীর সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।
তবে শিল্পা শেট্টিকে (Shilpa Shetty) ইদানীং বড় পর্দার কার্যত দেখাই যায় না। বরং বিতর্কিত বিভিন্ন কারণে শোনা যায় তাঁর নাম। কখনও স্বামী রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, কখনও নীল ছবি বানানোর মতো গুরুতর অভিযোগ, ইদানীং বিতর্ক আর শিল্পা শেট্টি যেন সমার্থক গয়ে গিয়েছে।
তবে শিল্পা ব্যবসাতেও নেমেছেন। মুম্বইয়ে তাঁর রেস্তোরাঁ বাস্তিয়ানের আয় শুনে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। শিল্পার রেস্তোঁরায় প্রত্যেক রাতে নাকি ২ থেকে ৩ কোটি টাকা ব্যবসা করে!
এমনই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন লেখিকা ও সমাজকর্মী শোভা দে (Writer and socialite Shobhaa De)। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন যে, শিল্পার রেস্তোঁরা থেকে দৈনন্দিন ২-৩ কোটি টাকা আয় হয়। এক রাতের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে যেখানে খাওয়া দাওয়া করেন অনেকে!
মোজো স্টোরিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোভা বলেছেন, 'মুম্বইয়ে যে পরিমাণ টাকা ওড়ে, অকল্পনীয়। একটা রেস্তোঁরায় প্রত্যেক দিন ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আয় হয়। বিশেষ করে সপ্তাহান্তের দিনগুলিতে সেই রেস্তোঁরায় ব্যবসা হয় ৩ কোটি টাকার! আমি সেটা শুনে নিজে রেস্তোঁরায় গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল এটা হতে পারে না। অবাস্তব।'
সঞ্চালিকা শোভা দের কাছে সেই রেস্তোঁরার নাম জানতে চান। তাতে শোভা বলেন, 'আমি বাস্তিয়ানের কথা বলছি। নতুন বাস্তিয়ান রেস্তোঁরার কথা বলছি। এটা টপ ফ্লোরে। ২১ হাজার স্কোয়্যার ফিটের ওপর বিশাল এক রেস্তোঁরা। অবাস্তব মনে হবে শুনলে। যেখানে গেলে মনে হবে, কোথায় এসেছি! গোটা শহরের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায় এখান থেকে।'
শোভা জানিয়েছেন, শিল্পার এই রেস্তোঁরায় প্রত্যেক রাতে ১৪০০ মানুষ আসেন। সকলেই আসেন অভিজাত পরিবার থেকে। দামী, বিলাসবহুল গাড়ি চড়ে আসেন অতিথিরা। শোভা বলেছেন, 'দুটো ব্যাচে খাবার সার্ভ করা হয়। সবপ মিলিয়ে ১৪০০ মানুষ খাওয়া দাওয়া করেন। দাদারে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সকলে ওই রেস্তোঁরায় ঢোকার জন্য অপেক্ষা করেন। মুম্বইয়ের অভিজাত পরিবারের সকলে এই রেস্তোঁরায় আসেন। অতিথিরা আসেন ল্যাম্বাির্গিনি, অ্যাস্টন মার্টিনের মতো গাড়ি চড়ে। আমি জানি না এই লোকেরা কারা? আপনারাই বলুন কী নাম সেই রেস্তোঁরার।'
শিল্পার রেস্তোঁরায় তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সেলিব্রিটি শোভা। বলেছেন, 'আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। যে সাতশোজন ডিনার সেরেছিলেন তাঁদের কাউকেই আমি চিনি না। বেশিরভাগই তরুণ প্রজন্মের। টেবিলে বসে তাঁরা বোতলের পর বোতল দামি টেকিলা অর্ডার করছিলেন। প্রত্যেক টেবিলে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হচ্ছিল। আমি তাঁদের কাউকেই চিনি না। একেবারে অচেনা তাঁরা।'