গুয়াহাটি: জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার। তাঁর দাবি, গায়কের মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়। বরং পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে তাঁকে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান জুবিন। সেই থেকে তাঁর মৃত্য়ু নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই। সেই আবহেই জুবিনের মৃত্যুকে 'খুন' আখ্যা দিলেন হিমন্ত। (Zubeen Garg's Death)
মঙ্গলবার অসম বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমনই দাবি করলেন হিমন্ত। তিনি বলেন, "প্রাথমিক তদন্তের পরই অসম পুলিশ বুঝে যায় যে (জুবিনের মৃত্যু) সরাসরি খুন। প্রথম দিন থেকেই ওটা খুন ছিল। অভিযুক্ত শ্যামকানু মহন্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা, অমৃতপ্রভ মহন্ত এবং শেখর জ্যোতি গোস্বামী খুনের মামলায় জেলে রয়েছেন। জুবিনের সঙ্গে আমাদের আবেগ জড়িে আছে। তাই জুবিন গর্গের খুনের তদন্ত করছি আমরা।" (Himanta Biswa Sarma)
জুবিনের মৃত্যুকে গোড়া থেকেই 'খুন' বলে দাবি করে আসছেন হিমন্ত। কেন তাঁর মনে এমন বদ্ধমূল ধারণা জন্মায়, তাও ব্যাখ্যা করেন তিনি। বলেন, "ওঁর মৃত্যুর পর পরই মনে হচ্ছিল, কিছু একটা অঙ্ক মিলছে না। তাই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, খুন ও গাফলতিতে মৃত্য়ুর ধারায় এফআইআর দায়ের করি আমরা। গোড়া থেকেই অসম পুলিশ নিশ্চিত ছিল যে, ওটা খুন। তাই দু'দিনের মধ্যে অসম সরকার আদালতকে তা জানায়।"
অসম বিধানসভায় এদিন জুবিনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠলে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন হিমন্ত। তিনি বলেন, "একজন খুন করে জুবিনকে। বাকিরা তাকে সাহায্য় করে। খুনের মামলায় চার-পাঁচজনকে ধরা হয়েছে।"
নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন জুবিন। সেখান প্রমোদতরীতে চেপে সমুদ্রে গিয়েছিলেন তিনি। সাঁতার কাটতে গিয়েই গায়ক প্রাণ হারান বলে জানা যায়। সিঙ্গাপুরের স্থানীয় প্রশাসন সন্দেহজনক কিছু না পেলেও, জুবিনের মৃত্যুকে 'খুন' বলে দাবি করে আসছে অসম সরকার। বিশেষ তদন্তকারী দল SIT গঠন করার পাশাপাশি, সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যে ৬০টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমিত্র সাইকিয়ার নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনও গঠিত হয় সেখানে।
এর পরই নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ, তাঁর ব্যান্ডের দুই সদস্য শেখর জ্যোতি ও অমৃতকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় জুবিনের তুতো ভাই সন্দীপন গর্গকেও, যিনি অসম পুলিশের পুলিশ আধিকারিক। সন্দীপনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারশ্রী নন্দেশ্বর বরা এবং প্রবীণ বৈশ্যকেও গ্রেফতার করা হয় আর্থিক তছরুপ মামলায়। তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে ১.১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে সামনে আসে অভিযোগ। ধৃতরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এই মুহূর্তে। হিমন্তর দাবি, SIR চার্জশিট দিলেই 'খুনে'র উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যাবে।