নয়াদিল্লি : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাগাড়ে শুল্ক-হুমকির মধ্যেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ভারত ও ইংল্যান্ডের। বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করল উভয় দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের পরই এই পদক্ষেপ। ইংল্যান্ডের সঙ্গে এই চুক্তিকে "ঐতিহাসিক মাইলফলক" বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'এই চুক্তি আমাদের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং আমাদের উভয় অর্থনীতিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনকে অনুঘটক করবে।"

এদিন এবিপি নেটওয়ার্কের India At 2047 সম্মেলনের মঞ্চে যোগ দিয়েও একই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আজ ভারতের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন। এখানে আসার কিছু আগেই আমার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এটা আপনাদের জানাতে পেরে আমি খুশি হচ্ছি যে, ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবার চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বিশ্বের দু'টি বড় এবং খোলা বাজারের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতার এই সমঝোতা দুই দেশের বিকাশে নতুন অধ্যায় জুড়বে। এটা আমাদের দেশের যুবকদের জন্য খুব বড় খুশির খবর। এতে ভারতের আর্থিক কার্যকলাপকে উজ্জীবিত হবে।"

 

সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার বলেছেন যে, বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির সঙ্গে জোট জোরদার করা এবং বাণিজ্য বাধা হ্রাস করা তাদের পরিকল্পনার অংশ, যাতে একটি শক্তিশালী এবং আরও নিরাপদ অর্থনীতি দেওয়া যায়। একটি সুষম, ন্যায়সঙ্গত এবং উচ্চাভিলাষী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যা পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করবে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে, জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে এবং উভয় দেশের নাগরিকদের সামগ্রিক কল্যাণ উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।"

 

এটি বিশ্ব বাজারের জন্য যৌথভাবে পণ্য ও পরিষেবার উন্নয়নে দুই দেশে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। প্রসঙ্গত, ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আমল থেকেই দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে কাজ করে আসছে।