দাঁতের যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দেন না অনেকেই। এমনকী দুই বেলা দাঁত মাজার অভ্যেসও নেই অনেকের। দাঁতের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই উদাসীন। যতক্ষণ না যন্ত্রণাটা মারাত্মক জায়গায় পৌঁছায়, ততক্ষণ অনেকেই পাত্তা দেয় না । ঠিকই, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝেন না অনেকেই। কিন্তু দাঁতের সমস্যা বাড়ায় হার্টের অসুখের ঝুঁকিও। এই নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়।
বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কমবয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের ঘটনা। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হল হার্ট অ্যাটাক। অনেকেই জেনে অবাক হবেন, মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে ,দাঁতের সঠিক যত্ন না নিলে কিন্তু তার প্রভাব পড়তে পারে হার্টের স্বাস্থ্যেও।
দাঁতে জমা হওয়া ব্যাকটেরিয়া এবং অণুজীবী পরোক্ষভাবে রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে । হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পেরিওডন্টাল রোগ এবং এথেরোস্ক্লেরোসিস, এন্ডোকার্ডাইটিস এবং এমনকি উচ্চ রক্তচাপের মতো কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাগুলির মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখা গিয়েছে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখে গিয়েছে, পেরিওডন্টাল রোগ, এথেরোস্ক্লেরোটিক ভাস্কুলার রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। হার্ভার্ড হেলথের একটি পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, মাড়ির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্যান্য গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ বেশি থাকে। এছাড়াও এই একই মত প্রকাশ করেছে একটি সুইডিশ গবেষণাও।
চিকিৎসকরা মনে করছেন, অনেক সময়ই দাঁতের অসুখে আক্রান্ত রোগীরা বুঝতে পারেন না যে মাড়িতে অসুখ করেছে। এই লক্ষণগুলি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। মাড়ি থেকে রক্তপাত, মুখে দুর্গন্ধ থাকা, মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত আলগা হয়ে যাওয়া দাঁতের স্বাস্থ্যের অবক্ষয়ের লক্ষণ। এই ধরনের সমস্যা থেকেই হার্টের স্বাস্থ্যের জটিলতার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
দন্ত চিকিৎসকদরে মতে, খারাপ খাদ্যাভ্যাস, বেশি চিনি খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, ধূমপান বা তামাক ব্যবহার দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ করে। সেই সঙ্গে যদি কারও ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে তো আরও সতর্ক হতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও মৌখিক স্বাস্থ্য খারাপ করতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। দাঁত থাকতে দাঁতের যত্ন নিন।